চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আবারও বন্য হাতির আতঙ্ক ফিরে এসেছে। সাড়ে তিন মাস চুনতি অভয়ারণ্যে থাকার পর গত ২০ জুলাই হাতির একটি পাল দেয়াঙ পাহাড়ে ফিরে আসে। তারপর থেকেই প্রায় প্রতিদিন খাবারের খোঁজে লোকালয়ে নেমে আসছে তারা। এতে আনোয়ারা–কর্ণফুলী উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ ও কেইপিজেডের প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
গত ৭ বছরে হাতির আক্রমণে নারী-শিশুসহ ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে শত শত বসতবাড়ি, দোকানপাট ও ফসলি জমি। থানার তথ্য অনুযায়ী, হাতি ফেরার পর গত ২০ দিনে থানায় ৭টি সাধারণ ডায়রি (জিডি) হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনার বেশিরভাগ সম্পর্কেই তারা অবগত নন। কেবল গত ৫ আগস্ট ইআরটি টিমের সদস্য আবু বক্কর হাতির আক্রমণে আহত হন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যে, ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর বন্য হাতির পাল দেয়াঙ পাহাড়ে আসে ও ফিরে যায়। কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে তারা স্থায়ীভাবে এখানে অবস্থান শুরু করে। বর্তমানে কেইপিজেডের দেয়াঙ পাহাড়ের লেক এলাকাই হাতির স্থায়ী আস্তানা হয়ে গেছে। দিনের বেলায় তারা লেকে থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে তাণ্ডব চালায়।
স্থানীয় বৈরাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও হাতি নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার আন্দোলনকারী এডভোকেট নুরুল আজিম বলেন, “চুনতি অভয়ারণ্যে ফেরার সাড়ে তিন মাস পর হাতিরা আবার আনোয়ারায় ফিরে এসেছে। এতে মানুষের মধ্যে পুরনো আতঙ্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে।”
আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, “হাতি ফেরার পর ৭টি জিডি হয়েছে। তদন্ত শেষে বন বিভাগে ক্ষতিপূরণের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হয়।”
বাঁশখালী জলদী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, “৫০ সদস্যের ইআরটি টিম রাতে পাহারা দিচ্ছে। হাতির আক্রমণে ইতোমধ্যে একজন সদস্য আহত হয়েছেন। জুলাই মাসে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।”
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আর এইচ/
