চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীদের সড়ক অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে পাশের আনোয়ারা উপজেলাতেও, যেখানে বিকেল থেকে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া বাইপাস এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পটিয়া থানার সামনেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে পটিয়ায় পুলিশের সঙ্গে দুই দফা সংঘর্ষ হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীদের। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় পটিয়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভকারীরা। সেখান থেকে শুরু হয় সড়ক অবরোধ। ফলে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।
মহাসড়ক বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার যানবাহনগুলো বিকল্প হিসেবে আনোয়ারা–বরকল সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনোয়ারার মালঘর বাজার মোড় থেকে থানার মোড় পর্যন্ত থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়।
সুকান্ত মল্লিক নামে এক যাত্রী জানান, ‘জরুরি কাজে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার জন্য বিকেল সাড়ে চারটায় মালঘর বাজার থেকে বের হয়েছিলাম, এখন সাড়ে ৫টা বেজে গেলেও থানা পার হতে পারিনি।’
শ্যামলি পরিবহনের চালক আবদুল্লাহ বলেন, ‘পটিয়ায় গণ্ডগোলের কারণে মহাসড়ক বন্ধ থাকায় আমাদের আনোয়ারা–বরকল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।’
আনোয়ারা উপজেলা চালক দলের সাধারণ সম্পাদক আজাদ আলী জানান, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের সব দূরপাল্লার গাড়ি এখন আনোয়ারা–বরকল সড়ক দিয়ে চলছে। জয়কালী বাজার এলাকায় রাস্তার সংস্কার কাজের কারণে একপাশ বন্ধ থাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা ও সাড়ে ১১টায় পটিয়া থানার পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীদের দুই দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ১৯ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় পটিয়া থানার ওসি আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূর ও এসআই আসাদূর রহমানের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন।
আর এইচ/
