জুলাই দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি শেষে থানার সামনে শান্তিপূর্ণ স্লোগান দিতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১১ জন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে পটিয়া থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে আন্দোলনের সংগঠক আশরাফুল ইসলাম তৌকির (২১) ও সাইফুল ইসলাম (১৭) গুরুতর আহত অবস্থায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোমবাতি প্রজ্বলনের পর থানার মোড়ে গেলে আন্দোলনকারীরা সেখানে অবস্থানরত রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ নেতা দীপংকর দেকে দেখে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ এসে কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে অনেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আহত ছাত্র আশরাফুল ইসলাম তৌকির বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম। দীপংকর দেকে পুলিশকে দেখাচ্ছিলাম মাত্র। হঠাৎ করেই পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়।”
দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক গোলাম মওলা মাশরাফ বলেন, “পুলিশ এখন টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজদের রক্ষা করছে আর নিরীহ ছাত্রদের পেটাচ্ছে। আমরা মৃত্যুকে ভয় করি না, এ আন্দোলন অন্যায়ের বিরুদ্ধে।”
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. নওশাদ জানান, আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত ওসি ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানান। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাসান আল বান্না, রিদুয়ান সিদ্দিকী, মাহবুব উল্লাহ, রাকিবুল হক হেলালি, সাজ্জাত হোসেন, গাজী আবুল হাসনায় জুবায়ের, সাইফুল, আকরাম, সাইফুল ইসলাম রাব্বি, সাইদুল ইসলাম, শওকত ইসলাম প্রমুখ।
আর এইচ/
