মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নথি জালিয়াতির মামলায় কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিচারক মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন।
দুদকের কৌঁসুলি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাবলু জানান, প্রায় ৪০ মিনিটের শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আগামী ৩ আগস্ট থেকে। প্রথমে মামলার বাদী এ কে এম কায়সারুল ইসলাম চৌধুরীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে।
এদিন আদালতে হাজির ছিলেন পাঁচ আসামি। তারা হলেন—সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, সাবেক জেলা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাজির স্বপন কান্তি পাল, জেলা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার জাফর আহমদ এবং আইনজীবী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। তাদের ৩ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগৃহীত ভূমির বিপরীতে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন। মামলায় তৎকালীন ডিসি রুহুল আমিনসহ ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালত তদন্তের দায়িত্ব দেন দুদককে।
কিন্তু তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার প্রধান আসামি রুহুল আমিনের নাম বাদ দিয়ে মামলার নথি পাঠান দুদকের সদর দপ্তরে। বিষয়টি জানতে পেরে বাদী একই আদালতে নতুন করে জালিয়াতির মামলা করেন রুহুল আমিন, সাদিকুল ইসলাম তালুকদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে।
দুদকের তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মেলায় ২০২৪ সালের ১ জুলাই সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাতে সাবেক ডিসি ও জেলা জজ ছাড়াও আসামি করা হয় আইনজীবী মোস্তাক আহমদ, নাজির স্বপন কান্তি পাল এবং স্টেনোগ্রাফার জাফর আহমদকে।
তবে মামলার শুনানিতে দুদকের কক্সবাজার আদালতের কৌঁসুলি আবদুর রহিম এবং কক্সবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম শাহ হাবিবুর রহমানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ বছরের ২৩ জানুয়ারি আদালত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তারা পরবর্তীতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। এরপর মামলাটি বিচারার্থে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে হস্তান্তর করা হয়।
আর এইচ/
