চট্টগ্রাম জেলায় নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের ৮৪ শতাংশ আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে গত ছয় মাসে।
সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামে এনআইডি সংশোধনের জন্য মোট ৫৪ হাজার ৪০৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৬৯৭টি আবেদন। যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৮৪ শতাংশ।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, নিষ্পত্তিকৃত আবেদনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে মঞ্জুর হয়েছে ২৬ হাজার ৭৯৩টি (৫৮.৬৩ শতাংশ), আংশিক মঞ্জুর ৬ হাজার ১৮৩টি (১৩.৫২ শতাংশ) এবং নামঞ্জুর হয়েছে ৮ হাজার ৪৩২টি (১৮.৪৬ শতাংশ)। এখনও অনিষ্পন্ন রয়েছে ৮ হাজার ৭১২টি আবেদন।
তিনি আরও বলেন, এনআইডি সংশোধনের আবেদন চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে সাধারণ ‘খ’ ও ‘খ-১’ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো ৭-১০ কর্মদিবসে নিষ্পত্তি করা যায়। তবে ‘গ’ ও ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন তুলনামূলক জটিল হওয়ায় বেশি সময় লাগে। যেমন—পূর্ণ নাম পরিবর্তন, পিতা-মাতার নাম পরিবর্তন বা ১০ বছরের বেশি বয়স সংশোধনের মতো বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন হয়।
এ সময় বশির আহমেদ জানান, চট্টগ্রামে এ ধরনের (গ ক্যাটাগরি) ২২ হাজার ২৪৮টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ৭৪৭টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এখনও ১ হাজার ৫০০টি আবেদন তদন্তাধীন রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, এনআইডি সংশোধন একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি মামলা বা জমি বিক্রির মতোই গুরুত্বপূর্ণ, তাই যথাযথ ডকুমেন্টস দাখিল ছাড়া সংশোধনের আবেদন করা যাবে না।
তিনি জানান, অনেকেই সরাসরি না গিয়ে কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে আবেদন করেন। এতে প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র ঠিকমতো দাখিল না হওয়ায় বহু আবেদন বাতিল বা অনিষ্পন্ন থেকে যাচ্ছে। এজন্য নাগরিকদের সরাসরি উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।
বেলায়েত হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, অনলাইনে আবেদনকারীরা যেন নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল থেকে সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করেন। প্রয়োজনে ১০৫ নম্বরে ফোন করে পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিন্ন সেবা গ্রহণের সময় অনেকেই দলিলে ভিন্ন তথ্য দেন—যেমন শিক্ষা সনদ, পাসপোর্ট, জন্মসনদ বা সন্তানের স্কুল সনদে নাম বা জন্মতারিখের অমিল থাকে। পরে তা এনআইডিতে সংশোধনের জন্য নতুন করে জটিলতা তৈরি করে।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০টি নতুন সংশোধনের আবেদন জমা পড়ছে। যৌক্তিক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আর এইচ/
