চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দরবেশহাট ডিসি সড়কটি সংস্কারের অভাবে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। দিন দিন বাড়ছে ভোগান্তি। কিছু কিছু জায়গায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
খানাখন্দে ভরা ক্ষতবিক্ষত এ সড়কে একটু বৃষ্টি হলেই জমে থাকে পানি। এ অবস্থায় সড়কে যাতায়াতকারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কে যান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার লোহাগাড়া সদর থেকে পুটিবিলা ইউনিয়নের হাসনাপাড়া বাজার পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও কোথাও তিন ইঞ্চি থেকে দশ ইঞ্চি পর্যন্ত গর্ত। বেশ কিছু জায়গায় উঠে গেছে পিচ, কার্পেট ও ইট পাথরের খোয়া।একটু বৃষ্টি হলেই এসব জায়গায় জমে পানি।
সরেজমিন দরবেশহাট রাস্তার মাথা থেকে পুটিবিলা ইউনিয়নের হাসনাপাড়া পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের প্রবেশমূখে রাস্তার উভয় পাশে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্হা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে থাকে।
পুরানো এই সড়কটির বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে আছে। বিশেষ করে এম চর হাট বাজার, মাষ্টার পাড়া টার্নিং, গৌড়স্থান লাকী পাড়ার আগে ও পরে, গৌড়স্থান নয়াবাজার, গজালিয়া দিঘীর পাড়, মনিরের টেক এবং হাসনা ভিটার আগে সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে বেশিরভাগ অংশ খানাখন্দে ভরা। একেবারে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটির কয়েক হাত পর পর বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। সে গর্তে জমেছে বৃষ্টির পানি। অনেক জায়গায় পথচারীরা যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে পার হচ্ছেন।পথচারি,শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দূর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কটি লোহাগাড়ার প্রধান সড়কের একটি অংশ। এই সড়ক দিয়ে পাশের পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা ও আলিকদম উপজেলার লোকজনও যাতায়াত করেন। ১০ বছর আগে এই সড়কটি পাকাকরণ করা হয় কিন্তু বছর দুই তিনেক পরই ভাঙতে শুরু করে। এখন বেশিরভাগ সড়কই খানাখন্দে ভরা। পরিস্হতি মোকাবিলায় সড়কের এসব গর্তে নামেমাত্র সংস্কার চালালেও প্রতিবারই বৃষ্টির পানি জমে পণ্ড হয় তাদের শ্রম।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান সড়ক নির্মানে নিস্মমানের সামগ্রীর ব্যবহার ও সড়ক দিয়ে দিনরাতে অতিরিক্ত বোঝাই সস্পন্ন বালু ও মাটি পরিবহনের গাড়ি চলাচলের কারনে সড়কের এমন বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সিএনজি চালক জাহেদুল ইসলাম ও একই রকম ভোগান্তির শিকার হয়ে বলেন, দিনের পর দিন গর্তের জন্য গাড়ি চালাতে সীমাহীন ভোগান্তি তে পড়তে হচ্ছে, কিছু অংশে সংস্কার করা হলে ও কিছুদিন পরই আবারও একই অবস্থায় পড়তে হয় আমাদের। এর স্থায়ী সমাধান চাই আমরা।
গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কবি সোলাইমান বলেন, সড়কটি এতই খারাপ যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীদের উপজেলা সদরে নিতে হলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। আবার বৃষ্টি হলে বড় বড় গর্তে পানি জমে সড়ক দিয়ে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি, তিনি বলেছেন শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ইফরাত বিন মুনির জানান, এমচর হাট বাজার থেকে হাসনাভিটা ব্রীজ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়েছে,ঠিকাদারকে কার্যাদেশ ও দেয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে দ্রুত কাজ শুরুর ব্যবস্হা করে হবে বলে ও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম নিউজ / এসডি/
