চট্টগ্রামে আসন্ন কোরবানির ঈদে সাড়ে চার লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছেন আড়তদাররা। তবে তারা মনে করছেন, বাস্তবে চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ চার লাখ পর্যন্ত হতে পারে।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯৫০টি চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল, যার মধ্যে তিন লাখ ছিল গরুর। সমিতির সাবেক সভাপতি মুসলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে ১১২ জন সদস্যের মধ্যে চামড়া সংগ্রহে সক্রিয় আছেন প্রায় ৩০ জন আড়তদার।
তিনি বলেন, “এবছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪.৫ লাখ হলেও বাস্তবে তা চার লাখের মতো হতে পারে।”
মুসলিম উদ্দিন জানান, একসময় চট্টগ্রামে ২২টি ট্যানারি থাকলেও বর্তমানে মাত্র একটি সচল রয়েছে, যা প্রায় ৪০ হাজার চামড়া সংগ্রহ করে। বাকি চামড়া ঢাকার ট্যানারিগুলোর কাছে বিক্রি করতে হয়।
ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে এখনও বিপুল অংকের বকেয়া রয়েছে বলে জানান আড়তদাররা। তবে ২০২০ সালের পর থেকে নতুন চামড়ার অর্থ পরিশোধ করায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
সরকার এবার লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৬০-৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৫-৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। গত বছর এই দাম ছিল যথাক্রমে ৫৫-৬০ ও ৫০-৫৫ টাকা।
খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২২-২৭ টাকা ও বকরির চামড়া ২০-২২ টাকায় বিক্রি হবে, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা পর্যন্ত বেশি।
তবে মুসলিম উদ্দিন বলেন, “অনেকে বোঝেন না যে সরকারের নির্ধারিত দামটি সংরক্ষিত চামড়ার জন্য প্রযোজ্য। কাঁচা চামড়া কেনার ক্ষেত্রে তা সরাসরি প্রযোজ্য নয়।”
চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ১০০টি চামড়ার জন্য একটি ৭৪ কেজির বস্তা লবণ লাগে। আড়তদাররা জানান, গত বছর যেখানে প্রতি বস্তা লবণের দাম ছিল ৯৩০ টাকা, এবছর তা নেমে এসেছে প্রায় ৮৫০ টাকায়।
কোরবানির চামড়া সংগ্রহে এবারও মাঠে থাকবে গাউসিয়া কমিটি। সংগঠনের মুখপাত্র মোসাহেব উদ্দিন বখতেয়ার জানান, “চট্টগ্রাম মহানগরী ও উপজেলাগুলোতে গাউসিয়া কমিটির সদস্যরা চামড়া সংগ্রহ করবেন। ইতোমধ্যে আমরা বিজ্ঞাপন দিয়েছি। আড়তদার যিনি বেশি দর দেবেন, তার কাছেই চামড়া বিক্রি করা হবে।”
তিনি আরও জানান, এবার মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা মাঠে চামড়া সংরক্ষণ করা হবে না। যে আড়তদার চামড়া কিনবেন, তিনিই সংরক্ষণের স্থান নির্ধারণ করবেন। এছাড়া চামড়া সংগ্রহে ২০০টি গাড়ি মোতায়েন করা হবে—এর মধ্যে ১০০টি থাকবে নগরীতে এবং বাকি ১০০টি বিভিন্ন উপজেলায়।
আর এইচ/
