মিরসরাইয়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবড়ি ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অর্ধ সহস্রাধিক মানুষ। ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তুত উপজেলা প্রশাসন। বৃষ্টি না থামলে প্লাবিত হতে পারে নতুন নতুন এলাকা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে কলকারখানা গড়ে উঠা জলাবদ্ধতার মূলকারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার বিকাল থেকে টানা দুই দিনের ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, বারইয়ারহাট পৌরসভা, মিরসরাই পৌরসভার, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও জোরারগঞ্জ, ইছাখালী, কাটাছরা, দুর্গাপুর, মিঠানালা, খৈয়াছড়া, ওচমানপুর, মঘাদিয়া, মায়ানি ও ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের নিচু এলাকা ডুবে গেছে। সরকারতালুক, খিলমুরালী ও ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের, মধ্যম ওয়াহেদপুুর, দক্ষিণ ওয়াহেদপুর আবুতোরাব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের আনুপযোগী হয়ে পড়েছে জোরারগঞ্জ-মুহুরীপ্রজেক্ট ও জোরারগঞ্জ- আবুরহাট এবং বড়দারোগাহাট-কমরআলী সড়ক।
মিরসরাই পৌরসভার মধ্যম মঘাদিয়া এলাকার বাসিন্দা মিজনুর রহমান জানান, ‘টানা দুদিনের ভারি বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে আমাদের এলাকার সবকিছু ডুবে গেছে। মানুষের বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে রান্নাবান্না করতে পারছেনা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢলে পুরো এলাকা ডুবে যায় আমরা এর প্রতিকার চাই।’
সৈদালী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাসুদ জানান, ‘মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠা ও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলে সৈদালী ও এর পাশ্ববর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। এর ফলে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকেনা। অনেকে রান্নাঘরে পানি উঠার কারণে চুলায় আগুন জ¦লেনি। খাল খননের পর ও এর প্রতিকার মিলেনি।
উপজেলার মধ্যম ওয়াহেদপর এলাকার বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে আমাদের হাবিব উল্লাহ ভ‚ঁইয়া সড়ক ছরায় পূর্বপাশে ভেঙ্গে গেছে। বিশেষ করে হামিদ আলী ভূইয়া জামে মসজিদ থেকে রেললাইন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার মিটার সড়কে ১৫দিন আগে সংস্কার কাজ করা হয়েছে।
কাটাছরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারি বর্ষনে জনগুরুত্বপূর্ণ জোরারগঞ্জ- আবুরহাট সড়কে ভেঙ্গে খালে পড়েছে। এতে করে মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
উপজেলার দুর্গপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের কৃষক জসীম উদ্দিন জানান, ‘টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আমার প্রায় এক একর জমির রোপা আমন তলিয়ে গেছে। এতে করে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে।’
মৎস্য চাষী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ইছাখালীতে কয়েকটি মৎস্য প্রকল্প থেকে পানির সাথে মাছ ভেসে গেছে। তবে বৃষ্টি আর না বাড়লে তেমন ক্ষতি আশঙ্কা নেই।’
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রোপা আমন ডুবে গেছে। এছাড়া সবজির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনো ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
মিরসরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, ‘মৎস্য প্রকল্পগুলোর পাড় নিচু হওয়ায় ভারি বৃষ্টি হলে পাড় ডুবে পানি বাইরে চলে যায়। এতে প্রকল্প এলাকা ডুবার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষয়ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই।’
মিরসরাই উপজেলা নিবাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় একটি কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছে। এছাড়ও ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ৩৬ টন চাল এবং ১ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ পেয়েছি জেলা প্রশাসক থেকে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ওইসব জায়গায় আমরা শুকনো খাবার বিতরণ করবো।
