ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ায় আনোয়ারা উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্তও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে পুরো উপজেলা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ উপড়ে পড়ে সংযোগ লাইন ছিঁড়ে যায়, ফলে একযোগে উপজেলার একাধিক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে রয়েছে, বৈদ্যুতিক তার ঝুলে আছে রাস্তায়। এতে যান চলাচল ও সাধারণ চলাফেরা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি কমায় বিদ্যুৎ এর লাইনম্যানরা লাইন সচল করতে ডালপালা কেটে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানায়, উপজেলার জিওরি, গুচ্ছ গ্রাম, হাজীগাঁও, তৈলারদ্বীপ, বরুমচড়া, সওদাগর দীঘি পাড়, চাতরী, গহিরা, বটতলী, জুঁইদণ্ডি, বারশত, রায়পুর ও হাইলধরের পীরখাইন এলাকাগুলোতে গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পীরখাইন, বটতলী ও পারকি এলাকায় তিনটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এতে করে শুক্রবার রাতে ১২ টা পেরিয়ে গেলেও কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সচল হলেও প্রায় এলাকায় বিদ্যুৎবিহীন রাত পার করছে স্থানীয়রা ।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগও দুর্বল হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
আনোয়ারা সাব স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল করিম বলেন, “গতকাল থেকে আমাদের ১৮ জন কর্মী মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ১৪টি লাইন সচল করার চেষ্টা চলছে। তবে ভারী বর্ষণ ও বাতাসে পুনরায় ক্ষতির শিকার হচ্ছে লাইনগুলো।”
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোরশেদুল আলম জানান, “চারবার বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই লাইন ফল্ট হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া একটু স্বাভাবিক হলেই দ্রুত লাইন সচল করা হবে।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আর এইচ/
