সাতকানিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৮১ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০-১৫০ অজ্ঞাত পরিচয়সহ ২৩১ জনকে আসামি করে এই মামলা হয়েছে। এ মামলায় চারজন বর্তমান ও সাবেক এক ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যানকেও আসামি করা হয়েছে।
বুধবার(২৮ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জনার কেঁওচিয়া গুরা মিয়ার বাড়ি এলাকার মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. তসলিম বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। অপরদিকে, এ মামলার আসামি কায়সার আহমদ কচির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, মামলার বাদী মো. তসলিম, হাফেজ খুরশিদ আলম, মাওলানা মুদাচ্ছির, মাওলানা নুরুল আলম তালুকদার, মোহাম্মদ সিফাত ও মোহাম্মদ সেলিম।
মামলার আসামীরা হলেন, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদ চেয়ারম্যান ওচমান আলী, মাদার্শার আবু নঈম মো. সেলিম, পশ্চিম ঢেমশার রিদুয়ানুল ইসলাম সুমন, ঢেমশার মির্জা আসলাম সরওয়ার রিমন ও ঢেমশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো.রিদুয়ান উদ্দিন। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, মাদার্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান সিকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো.আলী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সুমন, উত্তর সাতকানিয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ শান, পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি আনিছুর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, আজহার উদ্দীন মেম্বার, রিদুয়ানুল ইসলাম প্রকাশ ক্যাডার রিদুয়ান, কায়সার আহমদ কচির, ফারুক খান প্রকাশ ডাকাত ফারুক, নাজিম উদ্দীন প্রকাশ নাজিম মেম্বার, কামাল উদ্দীন, জামাল হোসেন , মাঈন উদ্দিন, মুহাম্মদ সাদেক , ইজ্জত আলী মেম্বার, নজরুল ইসলাম , আব্দুল মান্নান, আবু বকর, মো. রুবেল , ইরফান, হাসমত আলী, ওমর ফারুক ভুট্টু, আরিফ মুন্না , জিয়াউর রহমান, মুহাম্মদ জমির উদ্দিন প্রকাশ ক্যাডার জমির, মুহাম্মদ মিজান , মো. ইব্রাহিম প্রকাশ ডাকাত ইব্রাহিম, মুহাম্মদ তৌফিক, এরফান, মুহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম, শাহাদাত হোসাইন , মিনহাজ উদ্দিন, মুহাম্মদ সাকিব, মুহাম্মদ শাহজাহান , মিসফাউল আকবর, মুহাম্মদ সালাম, আবদুল ওয়াহেদ প্রকাশ শাহ আলম, মুহাম্মদ আলম , আব্দুল মজিদ সাবেক মেম্বার , মো. আলী , মো. মাহফুজ, মোহাম্মদ আসিফ , মোহাম্মদ জাবের , রাশেদুল ইসলাম, হাসান জায়েদ, মুহাম্মদ জাহেদ , জয়নাল আবেদীন প্রকাশ আলাউদ্দীন , মোহাম্মদ আয়াস, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন প্রকাশ সন্ত্রাসী জসিম, আতিকুর রহমান, জসিম উদ্দিন জিসান, নুরুচ্ছফা, গিয়াস উদ্দিন , ফরহাদ সিকদার , মো. সোহেল, শহীদুল ইসলাম, মুহাম্মদ মিজান , মো. সাঈদ, তরিকুল ইসলাম , মো. আরিফ মহিউদ্দীন, দিদারুল আলম, মো. আলী, মো. রিদুয়ান , ফয়েজুর রহমান, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, আরিফুল ইসলাম , এমরান হোসেন , আব্দুল মান্নান, মো.ফারুক, আলমগীর , জাবেদ ইসলাম , মো. রফিক , হামিদুর রহমান শিকদার ও মোহাম্মদ ফারুক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৮ জুলাই বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সর্বস্তরের জনসাধারনকে সাথে নিয়ে বাদীসহ আহতরা মিছিল নিয়ে উপজেলার কেরানীহাট হক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা দেশীয় ও বিদেশী অস্ত্র-শস্ত্র লোহার রড, হকিস্টিক, তরবারি, বর্শা, ককটেল, শর্টগান, হ্যান্ডগান ও রাইফেল নিয়ে অবস্থানকারীদের উপর হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা ১০টি মুদির দোকান, ২টি ফার্মেসী, ৫-৬টি চায়ের দোকানসহ কয়েকটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ভাংচুর ও একটি অটোরিক্সায় আগুন লাগিয়ে দেয়। হামলাকারীরা প্রথমে ককটেল ফাটিয়ে পুরো এলাকা অন্ধকার করে দেয়। পরে হামলাকারীরা কর্মসূচি ও মিছিলে অংশগ্রহনকারীদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালালে নাম উল্লেখ্যের আসামিসহ অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হাতে লোহার রড, কিরিচ ও বন্দুকের বাটের আঘাতে মামলার বাদীর ছেলে মোহাম্মদ সিফাতের ডান হাত সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যায়। এছাড়া দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও এলোপাতাড়ি গুলিতে ৮/১০ জন নিরীহ লোক গুলিবিদ্ধ ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
মামলার বাদী মো.তসলিম বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন করতে কেরানিহাট এলাকায় আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মিছিল করছিলাম। এ সময় সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আমাদের অনেক লোককে আহত করে। এর মধ্যে আমার ছেলে মো.সিফাতের ডানহাত সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। আরও কয়েকজন আহত হন। আমি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলায় কায়সার আহমদ কচির নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে । অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
