পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার তিন আসামিকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃত আসামিরা হলেন, রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের নাকাপা ৩নং ওয়ার্ডের মো. ইউসুফ (২৭), একই এলাকার মো. রানা (২৪) ও মো. ফয়সাল (২৫)।
বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, ভিকটিম (৫০) এর স্বামী ১০ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। ভিকটিম তার ১৫ বছরের ছোট মেয়েকে নিয়ে তার বসত বাড়িতে একা বসবাস করেন। গত ২২ আগস্ট রাত অনুমানিক ১০টার দিকে ভিকটিমের মেয়ে ঘরের উঠানে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছিল। কয়েকজন লোক ভিকটিমের বাড়ীর দিকে আসতে দেখে তার মেয়ে ভয়ে ঘরে ঢুকে যায়। তখন ভিকটিম ও ভিকটিমের মেয়ে একসাথে ঘর থেকে বের হলে আসামী মোঃ ইউসুফ, মোঃ রানা ও মোঃ ফয়সাল (২৫) তাদেরকে ঘিরে ফেলে এবং জোরপূর্বক তাদেরকে টেনে হেঁচড়ে পার্শ্ববর্তী ধর্ষক মোঃ ইউসুফের কলাবাগানে নিয়ে যায়। কলাবাগানে যাওয়ার পর ভিকটিমের মেয়ে আসামীদের নিকট হতে ছুটে দৌড়ে পালিয়ে যায়। মোঃ রানা (২৪) ও মোঃ ফয়সাল দুইপাশ হতে ভিকটিমের দুই হাত ধরে রাখে এবং মোঃ ইউসুফ অপরাপর আসামীদের সহযোগীতায় ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিমের মেয়ে পালিয়ে গিয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনার বিস্তারিত শুনার পর কলাবাগানের দিকে এগিয়ে আসলে ধর্ষকরা লোকজন আসার সংকেত পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অতঃপর স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে সেখান থেকে উদ্ধার করে তার বাড়ীতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ভিকটিমের অভিযোগের ভিক্তিতে গক ২৩ আগস্ট রামগড় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়।
মামলা রুজুর পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় রামগড় থানার একাধিক চৌকস টিম আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান শুরু করে। গত ২৭শে আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হেঁয়াকো বাজার থেকে রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নাকাপা পাড়ার মো. ইসমাইল হোসেনের ছেলে ধর্ষক মো. ইউসুফ , একই এলাকার মো. মীর হোসেনের ছেলে মো. রানা এবং মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. ফয়সাল কে নাকাপা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। দ্রুত বিজ্ঞ আদালতে বিধি মোতাবেক যথাসময়ে সোপর্দ করা হবে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
