সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে ফটিকছড়ির ভূজপুর। হালদা নদীর পাঁচটি স্থানে ভাঙ্গনের ফলে এ ইউনিয়নের রাস্তা ঘাটসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ফুটে উঠেছে কুৎসিত চিত্র।
এছাড়া, বেশ কয়েকটি এলাকায় পানির উচ্চতা এতই বেশী ছিল যে, মাটির তৈরী ঘর গুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। এমতাবস্থায় অনেককে খোলা আকাশের নীচে দিন যাপন করতে হচ্ছে।
২৫ আগস্ট (রবিবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ইউনিয়নের পূর্ব ভূজপুর, কৈয়া, পুকিয়া,হরিনা, সিংহরিয়া, আমতলী, গাছ বাড়িয়া,আজিমপুরসহ অন্তত পাঁচটি স্থানে হালদা নদীর বেঁড়ি বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয় ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা।
এদিকে, বসতঘর থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বাড়ি ছাড়া মানুষজন ফিরতে শুরু করেছে আপনালয়ে। অনেকে ফিরে এসে গৃহস্থালী সামগ্রী গোছানোর কাজে নেমে পড়েছেন।
পাশাপাশি বিগত কয়েক দিনের বন্যায় ঝিমিয়ে পড়া স্থানীয় হাট- বাজার গুলো মানুষের পদচারণায় মূখরিত হয়ে উঠেছে আগের মতো।
স্থানীয় কাজিরহাট বাজারের প্রবীন ব্যবসায়ী পেয়ারু মেম্বার জানান গত কয়েকদিন দোকান খোলা দুরের কথা ঘর থেকে বের পর্যন্ত হতে পারিনি। ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি এ কয়দিন। এখন পানি নেমে যাওয়ায় কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছি।
ভূজপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী শিপন বলেন অনেক চেষ্টা তদবীর করে গ্রামীণ রাস্তা ও কালভার্ট গুলো উন্নয়ন করেছি। এখন বন্যায় সব ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। দেখলে কান্না চলে আসে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, কোন ইউনিয়নে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপনে কাজ চলছে। তবে ভাঙ্গনগুলো যাতে দ্রুত মেরামত করা যায় সেটি মাথায় রেখে অগ্রসর হচ্ছি। ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনী ও প্রশাসন সরাসরি কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন বন্যায় স্বেচ্ছাসেবীদের ভুমিকা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।
