সাতকানিয়ায় রাতের আঁধারে জেয়াবুল হোসেন প্রকাশ লেডু (৫১) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার দু’চোখ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাঁর দুই পা এবং দুই হাত।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ছাবের আহমদের পুত্র। বর্তমানে তিনি ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত আওয়ামী লীগ নেতা জেয়াবুল হোসেনকে উপজেলার বাজালিয়া বাস ষ্টেশন থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে তুলে নিয়ে যায়। এরপর বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তার দু’চোখ উপড়ে ফেলা হয়। এ ছাড়াও তাঁর দুই পা ও দুই হাত পিঠিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। পরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে দুই হাত বেঁধে ফেলে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল টিম তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীন টিপু বলেন, এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে (জেয়াবুল হোসেন) বাজালিয়া বাস ষ্টেশন থেকে তুলে এনে বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্জন জায়গায় নিয়ে তার উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। ওই সন্ত্রাসীরা তার দু’চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাহলে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করতো। এ কেমন নির্মমতা? যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, রাতে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর টহল টিমের সাথে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি । অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
