বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এ দেশে মানবাধিকার বলে কিছু ছিল না: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম নিউজ ডটকম

পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশে মানবাধিকার বলে আর কিছু ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। খুনিদের যাতে কেউ বিচার করতে না পারে সেজন্য দায়মুক্তি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে আমাদের স্বজনদের হত্যার বিচার চাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পূর্বে আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে মামলা করতে পারিনি।

সরকার গঠনের পর সেই কালো আইন বাতিল করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরাই প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমরা সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের ব্যবস্থা করেছি। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত।

এ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে বিশ্বের শোষিত-নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের এবছরের প্রতিপাদ্য- ‘সবার জন্য মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

শেখ হাসিনা সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ৭৫ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের আহ্বান- ‘Together, let’s rejuvenate the Universal Declaration of Human Rights, demonstrate how it can meet the needs of our time and advance its promise of freedom, equality and justice for all’ এর প্রতিও পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে হাজার বছরের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে সারাজীবন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধু এমন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, যেখানে প্রতিটি মানুষ মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা লাভ করবে। এ অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি বারবার কারাবরণ করেছেন। অথচ তার সঙ্গেই মানবাধিকার সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নিঃস্বার্থ সংগ্রাম, অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতা লাভের মাত্র নয় মাসের মধ্যেই তিনি দেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষার দলিল হিসেবে সংবিধান প্রণয়ন করেছেন। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক মানবাধিকারসমূহ লঙ্ঘিত হলে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার প্রদানের ব্যবস্থা রেখেছেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর আমরা গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও বিচারের আওতায় এনেছি। আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। ইতোমধ্যে কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

ফলে বর্তমানে কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শৈশব/কৈশোর থেকেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনলাইনভিত্তিক ‘মানবাধিকার কোর্স’ চালু করেছি। তাছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ প্রতিরোধে কমিশনের উদ্যোগে ন্যাশনাল ইনকোয়ারি কমিটি করা হয়েছে। মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ মানবাধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আমরা আমাদের সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থসেবা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছি।

আমরা নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে আমরা বিশ্ব দরবারে মানবাধিকার রক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি।

তিনি বলেন, আমরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান রেখে যাচ্ছি, যা বিশ্ব পরিমন্ডলে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। ফিলিস্তিন, সিরিয়াসহ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিপক্ষে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।

বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত আটটি আন্তর্জাতিক দলিলে স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ২০২৩-২০২৫ মেয়াদে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) নির্বাচিত সদস্য হিসেবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পূর্ণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যম, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন শেখ হাসিনা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রামনিউজ.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, মতামত, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি । আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@chattogramnews.com ঠিকানায়।

সর্বশেষ

বান্দরবানের আলীকদমে যৌথ অভিযানে ৩৩৯ রাউন্ড গুলিসহ আটক ১

বান্দরবানের আলীকদমে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ৩৩৯ রাউন্ড...

অভিমানী কিশোর মুগ্ধকে পাওয়া গেল লালদীঘির পার্কে ঘুমন্ত অবস্থায়

এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফলাফল করতে না পেরে ঘরে মায়ের কাছে...

চৌদ্দগ্রামে পৃথক ঘটনায় গৃহবধূসহ তিনজনের মৃত্যু

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ, সড়ক দুর্ঘটনা ও সাপের কামড়ে গৃহবধুসহ...

টেকনাফে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত

কক্সবাজার-টেকনাফ হাইওয়েতে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত...

চুয়েটের পুকুরে গোসলে নেমে আবারও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুকুরে গোসল করতে...

চট্টগ্রামে এসএসসিতে শতভাগ পাশের গৌরব অর্জন সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার (২০২৬ সালের) প্রকাশিত...

আরও পড়ুন

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স...

দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে সংলাপের ওপর জোর দিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘আমার পূর্ণ...

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।প্রধানমন্ত্রীর...

ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে।তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি...