চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর রুহুল আমিন নামের এক সরকারি কর্মকর্তা ইসলামী ব্যাংক থেকে পেনশনের টাকা তুলে বাসায় যাওয়ার পথে ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়েরের ১২ দিনের মাথায় ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নগর গোয়েন্দা (বন্দর ও পশ্চিম) বিভাগ।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তিন জন হলেন, নুরুল হক সজীব ওরফে রাজীব, মহিউদ্দিন বেলাল ও মো. রায়হান।
রোববার (১ অক্টোবর) সকালে নগরীর মনসুরাবাদস্থ ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপ কমিশনার আলী হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উপ-কমিশনার (ডিবি) আলী হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, মামলা দায়েরের পর আমরা ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত তিনজনকে শনাক্ত করি। প্রথমে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মহিউদ্দিনের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং সেখানে মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার তথ্যে মতে সজীব ও রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে সজীব থেকে নয় লাখ, মহিউদ্দিন থেকে দুই লাখ ও রায়হান থেকে ৩০ হাজার টাকা সহ তিনজনের কাছ থেকে মোট ছিনতাই করা ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
আলী হোসেন আরও জানান, গ্রেফতার রায়হানের আগামী ৫ অক্টোবর বিয়ে করার কথা, তাই ছিনতাইয়ের ভাগে পাওয়া টাকা থেকে বিয়ের কেনাকাটা করে রায়হান। অন্যদিকে ভাগে পাওয়া টাকা দিয়ে ২টি অটোরিকশা কেনার পরিকল্পনা ছিলো গ্রেপ্তার বেলালের। কিন্তু কোনোটাতেই সফল হতে পারলোনা তারা। ছিনতাইয়ের মূলহোতা বা দলনেতা ছিলো সজীব। ছিনতাইয়ের জন্য সিএনজি অটোরিকশাও সজীব নিয়ে এসেছিলো। তিনজনকে ছিনতাইয়ের অপরাধে এক বছর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই মামলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরা দিতে এসে আবার তারা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে, পরের দিন এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন থানায় সজীবের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ছিনতাইয়ের আটটি মামলা, রায়হানের বিরুদ্ধে চারটি ও মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ভোলায় ছয়টি মামলা রয়েছে বলে জানান আলী হোসেন।
