একদিন পার পবিত্র ঈদুল আজহা । শেষ মুহূর্তে জমজমাট গ্রামগঞ্জের স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর বাজারগুলো । বেপারিরা গ্রামের বাজার থেকে ট্রাকে করে গরু নিয়ে ছুটছেন শহরের দিকে। হাটগুলো পশুতে ভরপুর থাকলেও বেচাকেনা কম। পছন্দের পশুটি নিজেদের সামর্থের মধ্যে কিনতে এক হাট থেকে অন্য হাটে ছুটছেন ক্রেতারা।
গত বছর ঈদুল আজহার আগের দিন পশুর হাটে চোখের জল ফেলেছিলেন বিক্রেতারা। হাটে ক্রেতা না থাকায় অনেকে লোকসান দিয়ে সস্তা দামে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু এবার হাটের দৃশ্যপট ভিন্ন।
এবার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা সব হাটেই গরুর দাম অনেক বেশি। গত বছরের চেয়ে এবার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি দাম চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
মঙ্গলবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় পশুহাটে মানুষের আগমনে জমে উঠতে শুরু করেছে হাটগুলো। হাট ঘুরে দেখা যায় এবার দেশী গরু উঠছে বেশী।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ছোটো-বড় প্রায় ৯৬০টি খামার রয়েছে। এছাড়াও এই উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার পরিবার ব্যক্তিগত ভাবে গরু, মহিষ, ছাগল পালনের সাথে জড়িত আছে। সবমিলিয়ে আনোয়ারা উপজেলায় কোরবানের জন্য ২৫হাজার ৪৩২টি ষাঁড়, ৬হাজার ৪৫৪টি বলদ, ২গাজার ৩২২টি গাভী, ৭হাজার ৬৫৭টি মহিষ, ১১হাজার ৩৪২টি ছাগল, ২হাজার ৪৩২টি ভেড়াসহ মোট ৫৫হাজার ৬৩৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা। যা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরের হাট-বাজার গুলোতেও বিক্রি হবে বলে জানান তারা।
পশুর চাহিদার থেকে যোগান বেশী থাকলে দাম কমার কথা। কিন্তু বাস্তব উল্টো। গতবারের চেয়ে এবার গরু প্রতি দাম পনের থেকে কুড়ি হাজার টাকা বেশী।
সোমবার ও মঙ্গলবার উপজেলার হাট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ছোট আকারের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে চল্লিশ থেকে পঁয়ষট্টি হাজার টাকা, মাঝারী সাইজের গরু সত্তর থেকে নব্বই হাজার। আর বড় গরু এক লাখ হাজার থেকে আট লাখ টাকা । ছোট খাসির দামও দশ পনেরো হাজার টাকার নীচে নেই। এমন চড়া দামের কারণে ক্রেতাদের ছুটোছুটি করতে হচ্ছে এ হাট থেকে ও হাটে। এর বাইরেও যাচ্ছেন গড়ে ওঠা ছোট ছোট খামার আর গেরস্থের বাড়ির গোয়ালে। ক্রেতাদের এমন ছুটোছুটির আঁচ লেগেছে এসব স্থানেও। তারাও ইচ্ছেমত দাম হাঁকাচ্ছেন।
এবার গরু, মহিষ, ছাগলের দাম বেশী হওয়া প্রসঙ্গে হাট ব্যবসায়ী সূত্র জানায় , গো- খাদ্যের চড়া দাম, গাড়ি ভাড়া ও বেশি এবং হাট থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া দালালরা তৎপর রয়েছে। এরা উল্টোপাল্টা দাম চেয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।
বিলপুর গ্রামের খামারী মোঃ ইমন বলেন, শখের বশে খামার করা।৪০টি গরু এবারের কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছি। মোটাতাজা করণের কোন ওষুধ ব্যবহার করেননি। ইতোমধ্যে ৩০টি বিক্রি হয়েছে। বাকীগুলোর জন্য ক্রেতারা আসছেন।
নগরীর বাকলিয়া থেকে চাতরী চৌমুহনী অস্থায়ী পশুর হাটে গরু কিনতে আসা আবু জোবায়ের বলেন, গতবছরের তুলনায় এবার আরো বেড়েছে গরুর দাম। তিনটা হাট ঘুরে চৌমুহনী বাজারে এসেছি। দরদামে হলে নিয়ে নিব।
আনোয়ারা সদরের ইলিয়াস বলেন, চৌমুহনী গরু বাজারে এসেছি মহিষ কিনতে। গতবারের চেয়ে দাম অনেক বেশি। ছোট মহিষের দাম ও এক লাখ টাকা হাকাচ্ছেন পশু মালিকরা।
সরকার হাট, চাতরী চৌমুহনী অস্থায়ী পশুর হাট, বৈরাগ মহালখান বাজারের ইজারাদারদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ক্রেতারা যেন সুন্দর পরিবেশে কোরবানির পশু কিনতে পারেন তার জন্য আমরা সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করেছি। ক্রেতা বিক্রেতার নিরাপত্তার ব্যবস্থাসহ পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও থাকছে পশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। কন্ট্রোর রুম ও জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন রয়েছে। আশা করি, বিক্রেতারা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করতে পারবেন।
এদিকে মহালখান গরু বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং ইউনিয়র (ইউপি) সদস্য মুছা তালুকদার বলেন, দিবারাত্রি গরুর বাজার চলছে এখানে। কোরবানির দিন সকালে পর্যন্ত চলবে এই বাজার। ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার্থে বসানে হয়েছে সিসি ক্যামরা আর খোলা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম। এ ইউনিয়নের প্রথম বাজার হিসেবে নামমাত্র হাসিলে বেশ ভালো বেচাবিক্রি হয়েছে পশু।
