রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্থানীয় এক বাজার থেকে একটি পাহাড়ি খরগোশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ক্ষেত্রবাজার এলাকা থেকে এ খরগোশটি উদ্ধার করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জামশেদুল আলম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে আমরা এ খরগোশটাকে উদ্ধার করি এবং এ খরগোশটাকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে “।
তবে সরফভাটার পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হলেও এ খরগোশটি বিলুপ্ত প্রায় নিউজিল্যান্ড রেবিট বলে দাবী বনবিভাগের।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরফভাটা গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে খরগোশটি ধরে বিক্রির জন্য সকাল ১১টার দিকে বিক্রির জন্য ক্ষেত্রবাজারে নিয়ে আসে দু’জন শিশু। মামুন নামের সরফভাটা স্কুলের এক শিক্ষার্থী দেড়শো টাকা দিয়ে এ খরগোশটি কিনে নেন। খরগোশটি দেখে ছবি তোলেন পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক এনায়েতুর রহিম। পরে বিষয়টি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাকে অবহিত করলে দুপুর ১টার দিকে খরগোশটি উদ্ধার করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে খরগোশটি ধরে বিক্রির সাথেসাথে পালিয়ে যায় বিক্রেতারা। তবে এ খরগোশটির বেচা-কেনার সাথে জড়িতরা সবাই বয়সে কিশোর হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনিপদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও জানা গেছে।
পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক এনায়েতুর রহিম বলেন, “খরগোশটি বিক্রির বিষয়টি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাকে অবহিত করলে দুপুরে এ খরগোশটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে বিলুপ্ত প্রায় এ খরগোশটি নিউজিল্যান্ড প্রজাতির। এটি উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে তবে এ খরগোশের প্রজননসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন”।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনবিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, “এক কেজি চারশ গ্রাম ওজনের এ খরগোশটি নিউজিল্যান্ড রেবিট। এর আগে বাংলাদেশের কোথাও এমন প্রজাতির খরগোশের খোঁজ পাওয়া যায়নি। খরগোশটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে। তবে এমন আরও একটি খরগোশ বনে রয়েছে বলে জেনেছি এবং সেটিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে”।
