ভবন নির্মাণে অনিয়ম এবং নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদী ব্যবহার করার কারণে বার বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসাথে অগ্নি দুর্ঘটনার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের শিক্ষা ও উন্নত প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন তারা।
নিউ সুপার মার্কেটে আগুন এবং সম্প্রতি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট এবং ভবনে ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। এসব ঘটনার পেছনে কোনো নাশকতা আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধও জানান তিনি।
চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ছয়বার বড়ধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের পরিমাণ কম হলেও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। সবশেষ গেল ৪ এপ্রিল বঙ্গবাজারের এবং ১৫ এপ্রিল নিউ মার্কেটের ঘটনায় নিঃস্ব হয়েছে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী।
রাজধানীতে অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিষ। বঙ্গবাজারের ঘটনার পর একাধিকবার পুরান ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার ভবন এবং মার্কেট পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে লাগোয়া ভবনগুলোতে বাতাস নির্গমনের পথ না থাকার পাশাপাশি নিম্নমানের সরঞ্জামাদী ব্যবহারে অগ্নি ঝুঁকির বিষয়টি।
এ বিষয়ে ফায়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিসের কোনো ভবন বা স্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করতে পারলেও কাউকে উচ্ছেদের এখতিয়ার রাখে না। তাই আইনের সঠিক প্রয়োগের আভাবে এধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটছে।
অগ্নি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ খান বার বার অগ্নিকাণ্ডের জন্য অসচেতনতা এবং নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদী ব্যবহারই দায়ী বলে উল্লেখ করেন।
বড়ধরণের অগ্নিকাণ্ডের মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের পরামর্শ দেন নোবিপ্রবি এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মো. বাহাদুর।
