চট্টগ্রামের আনোয়ারা বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামে অবস্থিত ইমাম আজম (রঃ) ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কুরআন একাডেমির শিশু শিক্ষার্থী ইফফাত মামুন রিয়াদ (১২) কে বেত্রাঘাত করে নির্যাতনের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ এসে অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসা শিক্ষকে থানায় নিয়ে যায়।
শিশু রিয়াদ বরুমচড়া এলাকার ওমর আলী বাড়ির মো. টুনটুর সন্তান। শিশুটির পিঠে কালো ছোপ ছোপ দাগ ও পিঠে মরিচ লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
যদিও ঘটনার সত্যতা শিকার করেছেন অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. হানিফ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ওসি মীর্জা মোহাম্মদ হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে এসআই আল আমিন কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ওই শিক্ষকের নাম হাফেজ মোহাম্মদ হানিফ। সে কওমী মাদরাসায় পড়ালেখা করেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। বাড়ি একই উপজেলার বারশত ইউনিয়নে।
সূত্র জানায়, নাজেরা পড়ুয়া ওই শিশু শিক্ষার্থী দুই বছর আগে কুরআন একাডেমিতে ভর্তি হন। কিছুদিন আগে পড়া না পাড়ায় ওই শিক্ষার্থীকে পিঠে ব্লেড মেরে মরিচের গুঁড়ো ছিটান ওই শিক্ষক। গতকাল শিশুটি মাদরাসা থেকে ছুটি পেলে নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শিশুর পিঠে অসংখ্য কালো দাগ রয়েছে। একাডেমির পাশের লোকজন জানায়, নির্যাতনের ভয়ে অনেকে কোনমতে পালিয়ে রক্ষা পেয়েছে।
একই বিষয়ে শিশুটির বড় ভাই আসাদুজ্জামান ছোটন বলেন, গতকাল মাদ্রাসা থেকে আমার ভাই বাড়িতে আসে। গোসল করার সময় তার পিঠে দাগ দেখেছি। পরে জিজ্ঞেস করতেই ঘটনাটি খুলে বলেছেন। পরে আমরা ওই মাদ্রাসায় গিয়ে সত্যতা পাই।
মানবাধিকার আইনবিদ এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, কোমলমতি শিশু-কিশোরদের শাসনের নামে নির্দয় নির্যাতনের ঘটনা দুঃখজনক। এসব ঘটনা বার বার ঘটছে।
মাদরাসা পরিচালক আবদুল আজিজ বলেন, কোনো শিশুকে নির্যাতন না করতে অফিস থেকে নিষেধ রয়েছে। তারপরও সে শিশুটিকে কেন নির্যাতন করছে বলতে পারতেছি না।
এ ব্যাপারে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর্জা মোহাম্মদ হাসান বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
