ফটিকছড়িতে আপন ছেলের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বৃদ্ধ মা-বাবা। উপজেলার বখতপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের রাজা উকিল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী মা রওশন আকতার (৫৫)।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের রাজা উকিল বাড়ির বয়োবৃদ্ধ মাহবুবুল আলম স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী হিসেবে কাজ করেন। তার স্ত্রী রওশন আকতার গৃহীনি। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রধরে ছয় মাস পূর্বে বেকার ছেলে পেয়ারুলকে বিয়ে করান। পেয়ারুলের বউ শারমিন আকতার জেনি। তার বাড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নে সে স্থানীয় একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নার্স হিসেবে চাকরী করেন।
এদিকে, বিয়ের কয়েক মাস না যেতেই ছেলে ও ছেলের বৌয়ের সাথে কলহ শুরু হয় মা -বাবার।
৬ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিবারের একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে বউ-শ্বাশুড়ির মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর পর বউ শারমিন জেনি কাজে চলে যায। দুপুরের দিকে ছেলে এসে ঝগড়ার বিষয়ে মায়ের কাছে কৈয়ফিয়ত চেয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মা-বাবা দুইজনকে গাছে বেঁধে রাখার হুমকি দেয় ছেলে পেয়ারুল।
এসব নির্যাতনের কথা বউয়ের মা ভাইকে জানালে ছেলে ও বউ তাদের উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে মা বাবাকে ভরন পোষণ না দেয়ার ভয় দেখায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পেয়ারুল ইসলাম বলেন, মা-বাবা মিলে আমি ও আমার বউয়ের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তা পুরোপুরি সত্য নয়। তবে কিছু ভুল বুঝাবুঝি আছে। সেগুলো সামাজিক ভাবে সমাধান হয়ে যাবে।
জানতে চাইলে শ্বাশুড়ির সাথে সু সম্পর্ক বজায় রয়েছে বলে জানান ছেলের বউ শারমিন জেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান বলেন ছেলেটির এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তখনও বৌ শ্বাশুড়ির মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। আমরা কয়েক দফা বসে সমাধান করে দিয়েছি।
জানতে চাইলে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ার বলেন ছেলে ও ছেলে বউয়ের বিরুদ্ধে মা রওশন আকতার বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
