চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই দেশে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ৬৫০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৪২ জন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৭৮ জন।
শনিবার সকালে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
যাত্রী কল্যাণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারী মাসে ৬৫০ দুর্ঘটনার মধ্যে সড়কে ৫৯৩, রেলপথে ৪৪ এবং নৌ-পথে ১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় সড়কে প্রাণ হারিয়েয়েছেন ৫৮৫ এবং আহত হয়েছেন ৮৯৯ জন যাত্রী। একই সঙ্গে রেল দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত ও নৌ-পথে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের চেয়ে এ বছরের জানুয়ারিতে সড়কে দুর্ঘটনা ৫.৩ শতাংশ ও দুর্ঘটনায় আহত ১০.০৪ শতাংশ বাড়লেও প্রাণহাণী ৪.৬ শতাংশ কমেছে। প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি সংগঠিত হয়েছে ১৭ জানুয়ারি। এই দিনে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হয়েছেন। আর সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ২ জানুয়ারি। এই দিনে ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, বিপজ্জনক অভারটেকিং, বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা, ছোট যানবাহন ক্রমশ বৃদ্ধি, বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সার্ভিস লেন না থাকায় ইজিবাইক, রিকশা, অটোরিকশা মহাসড়কে নেমে আসা, গুরুত্বপূর্ণ জংশনে, রাস্তার মোড় ও বাস স্টপেজগুলোতে যানজট তৈরি করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ ছাড়াও যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চালকের বেপরোয়া মনোভাব, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ছোট যানবাহনের ব্যাপক বৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজি ও রাস্তার পাশে হাট-বাজারও বাড়িয়েছে দুর্ঘটনার পরিমাণ।
