চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থেকে অপহরণ হওয়া এক রিকশাচালককে পাঁচদিন পর হাটহাজারী থেকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৭ (র্যাব)। উদ্ধার অভিযানের সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে হাটহাজারী উপজেলার দুর্গম পাহাড় উদালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী প্রকাশ কালু চেয়ারম্যান (৬৮), মো. খোকন (৩২), মো. আলা উদ্দিন (৩৭), মো. ইউসুফ (৩৬), শহিদুল্লাহ রাজু (৩৩), মো. নাজিম (৩৬), মো. জহিরুল ইসলাম (৪৮) এবং মো. সেলিম (৫১)।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী ভিকটিম চট্টগ্রাম নগরের উত্তর হালিশহর এলাকায় বাসিন্দা রিকশাচালক রহিম (ছদ্মনাম) গত ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভিকটিম রিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও ভিকটিম ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজির হালিশহর থানায় একটি হারানো সাধারণ ডায়েরি করেন। পরেরদিন ভিকটিমের বাবার মোবাইলে জনৈক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ফোন করে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদার টাকা না দিলে ভিকটিমকে মেরে ফেলার ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। ভিকটিমের বাবা বিষয়টি র্যাবকে অবহিত করে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার বারৈহাট এলাকার একটি ভাড়া ঘর থেকে অপহৃত ভিকটিমসহ মোট দুই ভিকটিমকে পায়ে লোহার শিকল এবং হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে অপহরণকারী চক্রের ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশুসহ নানান বয়সের লোকজনকে অপহরণ করে আটকে রাখে। পরে তাদের পায়ে শিকল বেঁধে মারধর করত এবং ভিকটিমদের পরিবারের কাছে বিভিন্ন অংকের মুক্তিপণ দাবি করতো। পরে মধ্যযুগীয় কায়দায় দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত ইটভাটায় জবরদস্তিমূলকভাবে কাজ করাতো। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হবে।
