কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর শহরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভগ্নদশা যাতায়ত অযোগ্য সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। টেকনাফ উত্তর নাইটংপাড়ার উঠনী হতে শাপলা চত্বর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা নাজুক।
সড়কের উভয় পাশে এবং উপরে গর্ত হওয়ায় যাত্রীরা ঝাঁকুনিতে পড়ে বয়স্ক নারী-পুরুষ কোমর ব্যাথাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পৌর শহরে বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় স্থানীয় ও দূরপাল্লার গাড়ী এবং পথচারীদের যাতায়তে ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা নাগরিক অনুপ্রবেশের পর দেশি বিদেশি এনজিও সংস্থার গাড়ি ও পর্যটকদের এ সড়কে যাতায়ত বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে টেকনাফ সরকারি হাসপাতালমুখী গর্ভবতী রোগীদের জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় গাড়ির ঝাঁকুনীতে ডেলিভারি ও রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে।
টেকনাফ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে ৪২ জন ভলান্টিয়ারদের নিয়ে দুইদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসক ডা. এনামুল হক প্রশিক্ষণকালে বলেন, ‘টেকনাফ পৌর শহরের ভগ্ন সড়কটি হাসপাতালমুখী গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক গর্ভবতী মহিলা চিকিৎসা শেষে শাহপরীরদ্বীপ যাওয়ার পথে টেকনাফ সদর শীলবনিয়া পাড়ায় ভগ্না সড়কের ঝাঁকুনিতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। বিকল্প সড়ক না থাকায় সড়কের ভয়ে গর্ভবতী রোগীরা বাসায় ঝুঁকি নিয়ে ডেলিভারি করছে’।
২০২১-২০২২ অর্থ বছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের ৩য় ধাপে হোয়াইকং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং হতে টেকনাফ পৌর শহর শাপলা চত্বর পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে এডিবি ১ শত ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির উন্নয়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি। এভাবে কাজহীন পড়ে থাকা অবস্থায় বর্ষা শুরু হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধা আলহাজ্ব জহির হোসেন এমএ বলেন, ‘টেকনাফ উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে প্রায় সময় উত্থাপন করে আসছি। কিন্তু শুধু আশ্বাস ছাড়া বাস্তবে কিছু দেখছিনা’।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সড়কের উন্নয়ন কাজ অতি শীঘ্রই শুরু হবে’।
