টানা দুই মাস বন্ধ থাকবে পঞ্চগড়ের চা প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলো। চা বাগানগুলোর প্রুনিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ জানুয়ারি) পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শামীম আল মামুন জানান, টেকসই চা উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলার সব চা-বাগানগুলোয় সুষ্ঠুভাবে প্রুনিং কার্যক্রম চালানো হবে। এজন্য আজ ১ জানুয়ারি থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাস সব চা-কারখানায় কাঁচা পাতা সরবরাহ ও চা প্রক্রিয়াজাত বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রুনিং সুপারিশমালা অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চা-গাছ বিভিন্ন উচ্চতায় প্রুনিং (ছাঁটাই) করতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সালে পঞ্চগড়ে সমতল ভূমিতে চা চাষ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে চা উৎপাদন শুরু হয়। উত্তরাঞ্চলের এই ৫ জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত ৯টি ও অনিবন্ধিত ২১টি বড় চা বাগান আছে। এছাড়া ১ হাজার ৭৪৫টি নিবন্ধিত ও ৮ হাজার ৬৭টি অনিবন্ধিত ছোট চা বাগান আছে। গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলে এ পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৪৩৩ দশমিক ৯৪ একর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৪৮টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা লাইসেন্স নিয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ে ২৪টি ও ঠাকুরগাঁওয়ে একটি কারখানা চালু আছে। কারখানাগুলো চা-চাষিদের কাছ থেকে সবুজ পাতা কিনে তৈরি চা (মেড টি) বানায়। পঞ্চগড়ে উৎপাদিত চা চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের নিলাম বাজারে বিক্রি করেন কারখানার মালিকেরা। পঞ্চগড়ে তৃতীয় নিলাম বাজার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে (২০২১) উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার (পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট) সমতল ভূমিতে কাঁচা চা পাতা উৎপাদিত হয়েছে ৭ কোটি ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার কেজি এবং সেখান থেকে তৈরি চা উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি। এবার উত্তরাঞ্চলে ১ কোটি ৭০ লাখ কেজির বেশি চা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শামীম আল মামুন বলেন, সমতল ভূমিতে চা চাষের জন্য পঞ্চগড় ও আশপাশের জেলাগুলো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। চায়ের চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের বিভিন্নভাবে সহায়তার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
