চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় ওই ইটভাটার ম্যানেজার কাঞ্চন তুরিকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১২টায় রাঙ্গুনিয়া থানার ইসলামপুর ইউনিয়নের মঘাছড়ি এলাকার ইটভাটা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খাঁন নূরুল ইসলাম।
এর আগে এদিন বিকেলে ওই ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু আজাদ। তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসের স্টাফ করেসপনডেন্ট।
মামলা আসামি করা হয়েছে- ইটভাটা মালিক ও ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী, সদস্য মহিউদ্দিন তালুকদার মোহন, ইটভাটার ম্যানেজার কাঞ্চন তুরি ও কামরান। এছাড়া অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ সংগ্রহ করতে রোববার চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের মঘাছড়িতে সড়কের পাশে মাটি তুলে নামহীন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় মেম্বার মহিউদ্দীন তালুকদার (মোহন) ৫-৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে আমার (সাংবাদিক আবু আজাদ) মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করেন।
আরও বলা হয়, এরপর আমাকে একটি সাদা রংয়ের নোহা গাড়িতে তুলে নিয়ে মঘাছড়ি বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে প্রকাশ্যে আমার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আবারও মারধর করা হয়। আমার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও আইডি কার্ড তারা কেড়ে নেন। মারধরের এক পর্যায়ে মোহনের মোবাইল ফোন দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
আমার পরিচয় জানার পর তিনি আমাকে বলেন, এরকম সাংবাদিক মেরে ফেললে কিছু হবে না। এরপর আমার মোবাইল দিয়ে গুগল ড্রাইভে ঢুকে সব ছবি-ভিডিও ডিলেট করে দেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে পকেটে মারধরকারী স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজের ভিজিটিং কার্ড ঢুকিয়ে দিয়ে ক্ষমতা থাকলে কিছু করে দেখাতে বলেন।
