সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

কাপ্তাই মাস্টার হোটেল পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে

আদনান আবির

রাঙামাটি-কাপ্তাই পর্যটন এলাকায় দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক এবং স্থানীয়দের কাছে অতি পরিচিত এক হোটেলের নাম-কাপ্তাই মাস্টার হোটেল।

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের কাপ্তাই বাস স্টেশন সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই বেশ জনাকীর্ণ এলাকায় টিনের চালের ঘরে বেড়া দিয়ে ঘেরা দেওয়া-ঐতিহ্যবাহী মাস্টার হোটেল। ২০০৩ সালে মাস্টার ফয়েজ আহমেদ এই হোটেল চালু করেন। এই মাস্টার হোটেলে সবকিছুই তরতাজা। কর্ণফুলী নদীর এবং কাপ্তাই লেকের সুস্বাদু মাছ এই হোটেলের ঐতিহ্য। তাই পর্যটন এলাকার ভোজন রসিকরা এখানে এসে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারেন।

দেখতে দেখতে আজ কাপ্তাই-রাঙামাটি এলাকার পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে সুস্বাদু খাবারের জনপ্রিয় একটি হোটেলে পরিনত হয়েছে। মূলত প্রতিদিন কাপ্তাই লেকের ২০ পদের মাছের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছে এই হোটেলের বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দিনদিন এই হোটেলের খ্যাতি বাড়ছে।
প্রতিদিন এই হোটেলে কাপ্তাই লেকের ২০ রকমের মাছ রান্না করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- বাচা মাছ, বোয়াল মাছ, কাতাল মাছ, রুই মাছ, শৈল মাছ, আইল মাছ, শরপুটি মাছ, কাজলি মাছ, কাচকি মাছ, টেংরা মাছ, চিংড়ি মাছ, কোরাল মাছ, বাচকুইট্যা মাছ, কালিগইন্যা মাছ, বাটার মাছ, বাইং মাছ, শিং মাছ, পাবদা মাছ, মিসালি মাছ,বাইলা মাছ সহ আরোও কয়েক প্রকার মাছ এই হোটেলে রান্না করা হয়। সেইসাথে পাহাড়ী দেশী মুরগি, বিভিন্ন পদের ভর্তাও পাওয়া যায় এই হোটেলে। তরতাজা কাপ্তাই লেক ও কর্ণফুলি নদীর মাছের স্বাদ এই দোকানে না খেলে বুজা যাবে না।

মাস্টার হোটেলে গিয়ে দোকানের ক্যাশ বাক্সে দেখা হয় ৭৩ বছর বয়সী ফয়েজ আহমেদের সাথে। যিনি এই দোকানের মালিক। ফয়েজ আহমেদের চেয়ে মাস্টার নামে সকলে তাকে বেশী চিনে।

আলাপ কালে ফয়েজ আহমেদ জানান, তার বাড়ি নোয়াখালীর ফেনী জেলাধীন সোনাগাজী উপজেলায়। স্বাধীনতার পরপরই তিনি সোনাগাজী থেকে কাপ্তাইয়ে আসেন। দৈনিক কাজ, গাড়ীর সহকারী এবং ট্রাক চালক হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এই এলাকায়। সে সাথে অনেকজনকে তিনি গাড়ির ড্রাইভিং শিখিয়েছেন। সে সুবাদে তাকে সকলে মাস্টার নামে ডাকে।

জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, তার দোকানে সব মাছ তরতাজা, কাপ্তাই লেক এবং কর্ণফুলী নদীর। প্রতিদিন সকালে তিনি কাপ্তাই জেটিঘাট মৎস্য আহরণ কেন্দ্র থেকে মাছ নিয়ে আসেন। দিনেরটা দিনেই পরিবেশন করেন। বাঁশি খাবার রাখেন না।
বাসায় তার সহধর্মিণী ও মেয়ে ঘরোয়া পরিবেশে রান্না করেন এসব খাবার। আর তিনিসহ আরো ৩ জন কর্মচারী খাবার পরিবেশন করেন কাস্টমারদের। প্রতিদিন শতাধিক ক্রেতা আসে দোকানে। দৈনিক খরচ বাদ দিয়ে হাজার -দেড় হাজারের মতো লাভ থাকে তার। বেশী লাভ করতে চায়না তিনি।

প্রতিদিন বেলা ১২টা হতেই দূর দূরান্ত হতে আগম ভোজন রসিক পর্যটকরা এখানে আসতে থাকেন। দুপুর হতে হতেই মাস্টার হোটেলে ভিড় বাড়তে থাকে। শুরুতেই এক সাথে ২০ জনে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও এখন দোকানের পেছনে কিছুটা বর্ধিত করায় ৩৫ জন বসে খেতে পারে। তারপরও ভিড় লেগে যায়।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রামনিউজ.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, মতামত, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি । আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@chattogramnews.com ঠিকানায়।

সর্বশেষ

সীতাকুণ্ডে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যুবককে খুন, মামলা দায়ের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাড়ি থেকে মো. নাঈম (৩০) নামক এক...

বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড়পাথর এলাকায় সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবে নিখোঁজ...

শারীরিক শিক্ষা কলেজে ভলিবল রেফারিজ কোর্স সম্পন্ন

বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ চট্টগ্রামের...

মানিকছড়ির ফার্মার্স ভ্যালি, পাহাড়ের চুড়ায় বিশুদ্ধতার হাতছানি

পাহাড়ি জনপদ মানিকছড়ি। সবুজের বুক চিড়ে এগিয়ে চলেছে আকাবাকা...

এসএসসি ৯৩ ব্যাচের প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত

এসএসসি ৯৩ ব্যাচের প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে গত...

চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ...

আরও পড়ুন

বাংলা একাডেমির নজরুল পুরস্কার পাচ্ছেন ফাতেমা তুজ জোহরা

ফাতেমা তুজ জোহরা-এর দীর্ঘ সংগীতজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাকে ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’-এ ভূষিত করেছে বাংলা একাডেমি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর গান পরিবেশন, চর্চা...

যিশুকে চুমু নিয়ে মুখ খুললেন কাজল, ২৯ বছরে প্রথমবার!

বলিউড যখন ক্রমশ আধুনিক ও সাহসী হচ্ছে, কাজল তখন নিজের তৈরি একটি গণ্ডিতে নিজেকে ধরে রেখেছিলেন। ১৯৯২ সালে ‘বেখুদি’ দিয়ে পথচলা শুরু, আর তারপর...