কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই হাজার আইফোন, কয়েক ডজন ল্যাপটপ ও যোগাযোগ সরঞ্জামসহ চীন ও তাইওয়ানের ছয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের হোটেল সী-প্যালেসে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের কক্সবাজার আদালতে হাজির করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—তাইওয়ানের ওয়েই চিং ওয়েন এবং চীনের জু ইয়াংফান, ইয়ান চ্যাংচেং, জু হাইয়াং, উ জিয়ান জিওন ও জাং জেমিং।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি ও দীর্ঘ তদন্তের পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে তারা বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা জানায়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ঢাকাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষায়িত তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে।
পুলিশের ভাষ্য, চীনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের পর্যালোচনার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া ও বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, তাদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল, এ কারণে তারা দেশত্যাগ করতে পারেনি। ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের বিষয়ে সতর্কতা জারি থাকায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও তাদের আটকে দেওয়া হয়।
মো. অহিদুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার দুটি হোটেল ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততা এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
হোটেল সী-প্যালেস কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৬ আগস্ট চীনা নাগরিকদের একটি দল হোটেলটিতে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের অভিযানের সময় তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তারা কী উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে এসেছিলেন, সে বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
