কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা এলাকায় গভীর রাতে সরকারি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে পানি চলাচলের জন্য পাইপ (স্থানীয়ভাবে ‘নাসি’) বসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি স্কেভেটর ও ১৫টি পাইপ জব্দ করে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী গ্রাম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেড়িবাঁধ কাটার কার্যক্রম বন্ধ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরৎঘোনা এলাকার হারুন মাতবরপাড়া ও লালমিয়াপাড়ার কয়েকজন ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ স্থাপনের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত স্কেভেটর ও ১৫টি পাইপ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কেউ পুনরায় এমন চেষ্টা করতে না পারে, সে জন্য ঘটনাস্থলে একজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ওই স্থানে আগে থেকেই পাইপ ছিল এবং নতুন করে পাইপ স্থাপনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তারা কোনো অনিয়ম করেননি বলেও দাবি করেন।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ স্থাপন বা পানি চলাচলের ব্যবস্থা করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজ করতে হলে কারিগরি সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) এবং পাউবোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সরকারি কোনো নির্মাণকাজও কখনো রাতের আঁধারে পরিচালিত হয় না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শরৎঘোনার উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধটি বঙ্গোপসাগরের জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস থেকে বিস্তীর্ণ জনপদকে রক্ষা করে। এ ধরনের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো এলাকা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, “বর্তমানে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ফিরে এলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
