কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বোনসহ তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আপন দুই বোন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের স্কুলপাহাড় এলাকায় কক্সবাজার-উখিয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের দুই মেয়ে রুবিনা আক্তার (৪০) ও শাহিনা আক্তার (৪২)। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্বজনরা জানান, পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে সোমবার সকালে কক্সবাজার আদালতে এসেছিলেন দুই বোন।
আদালতের কার্যক্রম শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অটোরিকশাটিতে চালকসহ ছয়জন আরোহী ছিলেন। খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন।
গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তারের মৃত্যু হয়। আহত অপর তিনজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মাবুদ বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
রামু হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিহতদের মরদেহের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত দুই বোনের পরিবারে শোকের মাতম বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
