কক্সবাজারের চকরিয়ার মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় দূরপাল্লার এভারগ্রিন বাস ও চকরিয়া সার্ভিস নামে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (৮ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশেপাশের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা এভারগ্রিন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী এসি বাসের সঙ্গে চকরিয়া থেকে কক্সবাজারমুখী স্থানীয় একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসই দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় এক শিশু ও লোকাল বাসের চালকের মৃত্যু হয়েছে।
চকরিয়ার মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, নিহত ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে ও বাসচালক মোহাম্মদ আলী (২৫) এবং লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকার মঞ্জুর আলীর এক বছর বয়সী সন্তান ইয়াহিয়া। দুর্ঘটনায় উভয় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাস দুটি মহাসড়কের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা পড়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এ ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর হাইওয়ে পুলিশ বাস দুটি উদ্ধার করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।থানীয় সূত্র ও মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ জানায়, কক্সবাজারগামী একটি এভারগ্রিন এসি বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা চকরিয়া সার্ভিসের বলাকা বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি বাসই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং উভয় বাসের বহু যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম জানা গেছে বলে জানিয়েছেন ওসি। তাঁরা হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), মোহাম্মদ নাইম (২৩), মাবুদ আবদুল (২৭), জোসনা আক্তার ৩২), মোহাম্মদ জনি (২০), মো. আলী (৩১), ইমা (৮), ফাতেমা বেগম (৩৪), মো. রফিকুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ ইসমাইল (২৯) ও মোহাম্মদ সিফাত (৩৫)। অন্যদের নাম–পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ইসমাইল ও সিফাতকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ওসি মাহবুব আলম।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মেদাকচ্ছপিয়া এই অংশটির দুপাশে ঘন জঙ্গল। আঁকাবাঁকা সড়ক। আশপাশে কোনো দোকানপাট নেই, নেই কোনো বাড়িঘর। তিনজন শ্রমজীবী মানুষ জঙ্গল থেকে লাকড়ি মাথায় বের হচ্ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে থমকে দাঁড়ান তাঁরা। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে দেখেন, চোখের সামনেই দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি বাসের ছাদ উড়ে ছিটকে পড়ে রাস্তার ওপর। আরেকটি বাস অদূরে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থামে। ছাদ উড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের আর্তচিৎকার ভেসে আসছিল। সড়কে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছিল বাসের নানা অংশ, যাত্রীদের আসন, মালপত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের মেদাকচ্ছপিয়ার দুই পাশে দীর্ঘ দুই কিলোমিটার করে যানজট। পুলিশ মহাসড়ক থেকে গাড়ি সরানোর পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
