চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সড়কের পাশে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে ছোট শিশু মোরশেদ (১৪ মাস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি শিশুটির দাদীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নিজ গ্রামে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “শিশুটি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিল এবং চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল। তবুও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।”
মোরশেদকে প্রথমে গত ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সার্বক্ষণিক চিকিৎসার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি।
অন্যদিকে, মোরশেদের চার বছর বয়সী বোন আয়েশা বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
শিশু দুটির মর্মান্তিক কাহিনীর সূচনা হয় ২৮ ডিসেম্বর রাতে, যখন চট্টগ্রামের পিএবি সড়কের পাশে অভিভাবকহীন অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এক দম্পতি। পরে মানবিক কারণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন শিশুদের তত্ত্বাবধান গ্রহণ করে।
এ ঘটনায় ৩১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাঁশখালী উপজেলা থেকে শিশুদের বাবা খোরশেদ আলম আনোয়ারা থানায় খোঁজ নিতে আসেন। আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। আদালতের নির্দেশে শিশুদের মা-বাবার বিরুদ্ধে অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, শিশুগুলোর বাবা-মায়ের মধ্যে পারিবারিক কলহের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার মহামনি এলাকায়।
আর এইচ/
