পৌষের শুরু থেকে দেশ জুড়ে বইছে শৈত্য প্রবাহ। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এই হাড়কাঁপানো কনকনে শীতের মধ্যে শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের মৌসুম। তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে বোরো ধান চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ বীজ ফেলছেন, আবার কেউ সেচ পাম্প ও বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে জমিতে পানি দিচ্ছেন এবং পাওয়ারট্রলি দিয়ে জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা।
আমুচিয়া ইউনিয়নের বগাচড়া বিলে বোরো ধান রোপণ শুরু করেছেন চাষিরা। এসময় বীজ তলা থেকে চারা সংগ্রহ ও ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পরিবারের চাহিদা মেটাতে ও বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষের উৎসবে মেতেছে কৃষক-কৃষানীরা।

আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো আবদুল জলিল বলেন, এবার ৫০ কানি জমিতে বোরো আবাদ করবেন তিনি। চারাও প্রস্তুত হয়েছে। এখন প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশা পড়ছে। এই সময় ধান লাগালে ধানের চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কিছুদিন পরে ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি।
বীজতলায় ধান ফেলছেন একই এলাকার কৃষক রবিউল হোসাইন। চলতি মৌসুমে ৩ কানি জমিতে বোরো চাষ করবেন তিনি। এবার ব্রি ধান ৪৯, ৯২, ১০০ ও স্থানীয় হাইব্রিড জাতের চাষ বেশী হবে বলে জানান তিনি। চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা ওই এলাকার কৃষকদের।
ধান রোপণের শ্রমিক বাবুসহ কয়েকজন বলেন, ভোরে কুয়াশার মধ্যে বীজ তলা থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে সেগুলো মাথায় করে জমিতে নিয়ে গিয়ে ধান লাগানো হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান লাগিয়ে প্রত্যেকের দৈনিক ৮০০ টাকা আয় হয়। সকাল পেরিয়ে দুপুর হয়ে গেলেও কুয়াশাচ্ছন্ন থেকে যায় চারপাশ। তীব্র শীতের মধ্যে প্রতিদিন ভোরে ঠান্ডা পানি থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে কাঁদার মধ্যে ধানের চারা রোপণ করি। আজ এক সপ্তাহ ধরে শীতের মধ্যে এই কাজ করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে।
কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে বোয়ালখালীতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের ২০০ জন কৃষককে উপসী বীজ ধান ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। উপজেলায় ইতিমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় ধান রোপন শুরু করেছেন চাষিরা। অনেকেই ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। শতভাগ পুরোন হবে বলে আশা করছি । তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারনে ধানের বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
