চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় দুই ভাতিজাকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে চাচা বদিউল আলমের (৫৫) বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত চাচা বদিউল আলম একই এলাকার মৃত আদু মিয়ার ছেলে।
অপরদিকে, আহত ভাতিজারা হলেন, একই এলাকার নুরুল আলমের ছেলে এমতাজুল হক (২৮) ও মো. খোরশেদ (২৩)।
জানা যায়, অভিযুক্ত বদিউল আলম ও তাঁর বড় ভাই নুরুল আলমের মধ্যে বিগত এক বছর ধরে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। পরে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সেটি সমাধান হয় এবং বিরোধপূর্ণ জায়গাটি পরিমাপে নুরুল আলম পান। সম্প্রতি ওই জায়গায় নুরুল আলম ও তার দুই ছেলে গবাদিপশুর খাদ্য রাখলে চাচা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে মঙ্গলবার নুরুল আলম বসতঘরের দরজা খোলা রেখে ফজরের নামাজে যান। এ সময় বদিউল আলম ঘুমন্ত অবস্থায় তার দুই ভাতিজা এমতাজুল হক ও মো. খোরশেদের উপর রাম দা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহত এমতাজুল হক ও মো. খোরশেদের মা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার দেবর বদিউল আলম ফজরের সময় আমাদের বসতঘরে প্রবেশ করে আমার দুই ছেলেকে কুপিয়েছে। পরে ছেলেদের চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে আসলে সে রাম দা আমাদের বারান্দায় ফেলে পালিয়ে যায়। আমার এক ছেলের একটি আঙুল পুরো কেটে গেছে। ছেলেদের খাটে যদি মশারি না থাকতো তাহলে সে আমার দুই ছেলেকে সহজেই মেরে ফেলত।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, এ ঘটনায় আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আর এইচ/
