চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন নিমতলা এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে একটি প্রাইভেটকার ছিটকে নিচের সড়কে পড়ে শফিকুর রহমান(৫৫) নামে চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন গাড়িতে থাকা চালকসহ ৫ জন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় বন্দর থানাধীন নিমতলা মোড়ের কাছে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গাড়িটি ছিটকে পড়ে যায়।
নিহতের নাম শফিকুর রহমান(৫৫)। নিহত শফিকুর রহমান ৩৬নং পূর্ব গোসাইলডাঙ্গা ছালে আহমদ কন্ট্রাক্টরের বাড়ির মোঃ ইমরান শরিফ এর পুত্র। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের স্টাফ এবং বন্দর থানার কৃষক দলের সাংগঠনিক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নিহত শফিকুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা জানান, বন্দরের ডিউটি শেষে তিনি সাইকেল চালিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এরমধ্যেই এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রাইভেটকার নিচে সড়কে ছিটকে পড়ে তিনি মারা গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নিহত শফিকুর রহমান বন্দর থানা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বন্দরের কর্মচারী। আর দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেট কারটি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বন্দর থানা কৃষক দলেরর সভাপতির ছেলে।
বন্দর থানার সেকেন্ড অফিসার আবু সাঈদ রানা জানান, গাড়িতে এক তরুণীসহ ৫ যুবক ছিলেন। তারা পতেঙ্গা বিচ থেকে আসছিল। ৪ যুবকের মধ্যে একজন গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের ওপর দিয়ে তীব্র গতিসম্পন্ন গাড়িটি নিচে পড়ে যায়। এখনো পর্যন্ত ( বৃহস্পতিবার রাত ১২টা) এই ব্যাপারে কোন মামলা হয়নি। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছে।
গাড়িতে থাকা ৫ তরুণ-তরুনী হলো-সৈয়দা সমরাজ মাখনু (২৩)। তিনি চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরা গ্রামের সমদ আলী খান চৌধুরী বাড়ির সৈয়দ মঞ্জুর মোর্শেদের মেয়ে। অপর চার তরুণরা হলেন- চান্দগাঁও আবাসিক, বি- ব্লক ১নং রোডের সিদ্দিক আহম্মেদের পুত্র মোঃ ইউসা (২৩)।
বায়েজিদ শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকার মাহাবুব আলমের পুত্র তাহসিন মোহাম্মদ তানিম (১৮), সদরঘাট এলাকার পুড়া মসজিদের পাশে বিসমিল্লাহ ট্রান্সপোর্ট-এর মালিক আরিফুর রহমানের পুত্র মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রায়াত (১৯), এবং মোঃ সাকিব (২৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে একটি প্রাইভেট কার ছিটকে নিচে পড়ে যায়। এ সময় পথচারী শফিকুর রহমান গুরুতর আহত হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে তিনি বন্দরের কর্মী বলে জানা গেছে।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে আগ্রাবাদের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এক্সপ্রেসওয়ের সর্বোচ্চ গতিসীমা :
সিডিএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয় ৬০ কিলোমিটার। তবে আঁকাবাঁকা অংশে সর্বোচ্চ গতিসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৪০ কিলোমিটার। কিন্তু গতকাল টয়োটা হ্যারিয়ার নামে গাড়িটি ১০০ ফুট ওপর থেকে ৮০ কিলোমিটারের বেশি স্পিডে নিচে আছড়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, গাড়িটি যে স্থান থেকে ছিটকে পড়েছে, সেখানে বাঁক রয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের ওপর দিয়ে তীব্র গতিসম্পন্ন গাড়িটি নিচে পড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।
এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি থামানো বা দাঁড় করিয়ে রাখা এবং গাড়ি থেকে নামা নিষিদ্ধ। পরীক্ষামূলক যান চলাচলের সময় সাময়িকভাবে ট্রাক, বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে চলছে মোটরসাইকেলও।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
