তাকাইচির জয় জাপানি নারীদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হলেও, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের অনুসারী এবং আয়রন লেডি হিসেবে খ্যাত ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ মার্গারেট থ্যাচারের অনুরাগীর নেতৃত্বে রক্ষণশীল রাজনীতি আরও জেঁকে বসার সম্ভাবনাটিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গত কয়েক দশক ধরে মুদ্রাস্ফীতিহীন অর্থনীতির পর এখন জাপান উল্টো মূল্যবৃদ্ধির চাপের মুখে পড়েছে। এতে জনগণের মধ্যে জমতে থাকা অসন্তোষ বিরোধী ও কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর প্রতি সমর্থন বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় আছে এলডিপি।
শিনজো অ্যাবের মতো তাকাইচিও দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙা করতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে। এই নীতির প্রভাব ইতোমধ্যেই বাজারে পড়েছে—‘তাকাইচি ট্রেড’ নামে পরিচিত প্রবণতায় টোকিওর নিক্কেই ইনডেক্স (শেয়ারবাজার সূচক) নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বিনিয়োগকারীরা সরকারের ঋণ-নির্ভর ব্যয়ের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ বার্ষিক জিডিপির চেয়েও অনেক বেশি।
আইচি গাকুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক তাদাশি মোরি বলেন, তাকাইচির কাছে ক্ষমতা থাকলেও কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনার জন্য বিরোধী দলের আরও সমর্থনের প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, এলডিপি ও ইশিন কোনও কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। স্থিতিশীল সরকার এবং গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্টারি কমিটির নিয়ন্ত্রণ পেতে হলে তাদের অর্ধেকেরও বেশি আসন নিশ্চিত করতে হবে।
মোরির মতে, তাকাইচি যদি ‘অ্যাবেনোমিকস’-এর নীতি পুনরুজ্জীবিত করতে চান, তাহলে তা নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, অ্যাবেনোমিকস তৈরি হয়েছিল মুদ্রাস্ফীতিহীন অবস্থায়। কিন্তু এখন যখন দাম বাড়ছে, অতিরিক্ত প্রণোদনা কেবল ইয়েনকে (জাপানের মুদ্রা) আরও দুর্বল করবে। ভোগ-কর হ্রাস করলে সাময়িকভাবে চাহিদা বাড়তে পারে, কিন্তু তা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করবে না।
