রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ না করলে ভারতের ওপর শুল্কের বোঝা বহাল থাকবে বলে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১৯ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
ট্রাম্প বলেন,“আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে তেল সংক্রান্ত ইস্যুতে তিনি আর জড়িত থাকবেন না।”
এর আগেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রুশ তেল আমদানি বন্ধে ভারত সম্মত হয়েছে। তবে দিল্লি সেই দাবি অস্বীকার করে জানায়, এমন কোনও আলোচনার তথ্য তাদের কাছে নেই।
এই প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন,“যদি এটা তাদের বক্তব্য হয়, তাহলে তারা শুল্ক দিতে থাকবে — ব্যাপক হারে। আর সেটা তো তারা চায় না।”
তথ্য বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলার এর হিসাব বলছে,ইউক্রেনে রুশ রিফাইনারিতে ড্রোন হামলার পর রপ্তানি বেড়েছে, আর ভারতীয় আমদানিও এই মাসে ২০% বেড়ে দৈনিক ১৯ লাখ ব্যারেল ছুঁতে পারে।
এর আগে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা বিশ্ব যখন রুশ তেল বর্জন করে, তখন মূল্যছাড়ে সেই তেলের বৃহত্তম আমদানিকারক হয়ে ওঠে ভারত।রুশ তেল ইস্যুতে সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়িয়েছে, যা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ওয়াশিংটনের দাবি, রুশ তেলের অর্থ সরবরাহেই ইউক্রেন যুদ্ধ জিইয়ে রাখতে পারছে ক্রেমলিন। ফলে যারা এই তেল আমদানি করছে, তারা পরোক্ষভাবে যুদ্ধের জন্য দায়ী।
ভারতের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন,“ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে চলছে।”গত সপ্তাহেই ভারতের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ট্রাম্প বুধবার পুনরায় দাবি করেন,“মোদির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, ভারত শিগগির রুশ তেল আমদানি বন্ধ করবে।”কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়,“সেই দিনের কোনও ফোনালাপের তথ্য আমাদের কাছে নেই।”তারা আরও বলে,“ভারতীয় ভোক্তার স্বার্থই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।”
ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তা জানান,ভারত ইতোমধ্যেই রুশ তেল আমদানি অর্ধেকে নামিয়েছে, তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা যাবে না।
ভারতের এক কর্মকর্তা জানান,“নভেম্বর মাসের জন্য অর্ডার আগেই দেওয়া হয়েছে। তাই দৃশ্যমান প্রভাব ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে দেখা যেতে পারে।”
