বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক লায়ন আসলাম চৌধুরী বলেছেন, “ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে মানুষ কখনো বিপদগামী হয় না। প্রতিটি ধর্মই তার অনুসারীদের ভালো কাজে উৎসাহিত করে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়।”
১৭ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের বিবিবিলা শান্তি বিহার ও সমাজ কল্যাণ কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত কঠিন চীবর দান ও সদ্ধর্ম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লায়ন আসলাম চৌধুরী বলেন, “এ দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন থাকার কথা নয়। আমরা দিনশেষে একই পরিবারের সদস্য। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা আওয়ামী দুঃশাসনের কারণে রাজনীতি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধাগ্রস্ত ছিলাম। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় আছি।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের শ্রেণীবৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধশালী দেশ বিনির্মাণই আমাদের লক্ষ্য। এতে জাতি–ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও পরিচালনা শিক্ষক রাজীব কান্তি বড়ুয়া ও অ্যাডভোকেট পলাশ বড়ুয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপসংঘরাজ সদ্ধর্মনিশি ধর্মদর্শী মহাথেরো।
বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান কঠিন চীবর দান বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুদের বিশেষ পরিধেয় বস্ত্র অর্পণের প্রাচীন ঐতিহ্য। এই অনুষ্ঠানে নৈতিকতা, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্ট পরিষ্কার দান, কল্পতরু দান ও পিণ্ডু দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালিত হয়। নারী–পুরুষ, ভিক্ষু, উপাসক–উপাসিকারা উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় সূত্র মতে, আড়াই হাজার বছর আগে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহা পূণ্যবতী বিশাখা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা প্রস্তুত করে, রং ও বয়ন শেষে চীবর তৈরি করে ভিক্ষু সম্প্রদায়কে দান করেন। সময়সীমা ও শ্রমঘন কাজের কারণে এই ধর্মীয় আয়োজনে ‘কঠিন চীবর’ নামকরণ করা হয়।
