দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ি বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবীতে বদরখালী ইউনিয়নের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের আয়োজন করে।
বদরখালী ইউনিয়নে প্রায় ৭০ হাজার লোক বসবাস করে। এছাড়া মহেশখালী উপজেলার সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমে হচ্ছে বদরখালী ইউনিয়নের প্রধান সড়কটি। দীর্ঘদিন বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ি বন্ধ থাকায় সকল স্তরের নাগরিকগণ নিরাপত্তাহীন ভুগছে। চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে বৃহৎ ইউনিয়ন হচ্ছে বদরখালী। এছাড়া মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও মাতারবাড়ির সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে বদরখালী বাজার। এ ব্যস্ততম এলাকায় পুলিশ ফাঁড়িটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনে দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে।

দীর্ঘ সময়ে বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ি বন্ধ থাকায় প্রায় ২৫জন বক্তি খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিয়ত চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, রাহাজানি ও চাঁদাবাজির মত ঘটনা ঘটছে অত্র এলাকায়। এছাড়া বদরখালী অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা ইভটিজিং এর স্বীকার হচ্ছে। ২০২০ সালের দিকে বদরখালী পুলিশ ফাঁড়িটি বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ কোভিড-১৯( করোনা) এর পর থেকে বদরখালীর এ পুলিশ ফাঁড়িটি আর চালু হয় নাই।
মঙ্গলবার(১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার সময় বদরখালী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন চকরিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন আলোর সঞ্চালনায় উপরোক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বদরখালী এম এস ফাজিল মাদ্রাসা অধ্যাক্ষ মাওলানা সাঈদ আহমদ তারেক, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমীর মাওলানা ফরিদুল আলম, বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন, বদরখালী কলোনীজিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু নাঈম লিটন, বদরখালী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ পারভেজ মোশারফ।
বদরখালী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান বলেন, বদরখালী পুলিশ ফাঁড়িটি দ্রুত স্থাপনের দরকার। এ জনবহুল এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত অপরাধজনিত ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। বদরখালী ইউনিয়নের প্রত্যেকটি এলাকায় মাদকের প্রবণতা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড় অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বখাটে ছেলেদের দ্বারা ইভটিজিং এর স্বীকার হচ্ছে। এসবের লাগাম টানার জন্য বদরখালী পুলিশ ফাঁড়িটি আবারো স্থাপন করা খুব জরুরি।
বদরখালী এম এস ফাজিল মাদ্রাসা অধ্যাক্ষ মাওলানা সাঈদ আহমদ তারেক বলেন, বদরখালী এম এস ফাজিল মাদ্রাসায় দীর্ঘ ৯বছর আমার কর্মজীবন। দীর্ঘ এ কর্মজীবনে বদরখালীতে প্রতিনিয়ত মারামারি ও খুনের খবর শুনতে পায়। এছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে সব সময় চিন্তিত থাকি কখন শিক্ষার্থীরা কিশোর গ্যাংদের ইভটিজিং এর স্বীকার হয়। তাই বদরখালী পুলিশ ফাঁড়িটি পূণরায় স্থাপন করে হলেও মানুষের জনজীবনে একটু স্বস্তি ফিরে পাক।
মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমীর মাওলানা ফরিদুল আলম বলেন, বদরখালী ইউনিয়নের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য রোদে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করছে। সরকারকে বুঝা উচিত কাল ক্ষেপণ না করে দ্রুত সময়ে পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিস্থাপন করা। এছাড়া বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সকল স্তরের মানুষকে সামাজিকভাবে আন্দোলন গড়ে তুলা দরকার।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন আলো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কারণে আজ হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে বদরখালী পুলিশ ফাঁড়িটি পূণরায় স্থাপনের জন্য। কারণ চকরিয়া থানা থেকে বদরখালী ইউনিয়নের দুরত্ব ১৮ কিলোমিটার। থানা থেকে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসতে আসতে অপরাধকারী অপরাধ করে চলে যায়। বদরখালী পুলিশ ফাঁড়িটি দীর্ঘ অনেক বছর চালু থাকার পর ২০২০ সালের দিকে বন্ধ হয়ে যায় ফলে বদরখালীতে দিনে দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এরপর থেকে বদরখালী পুলিশ ফাঁড়িটি আর স্থাপন হয় নাই। বদরখালী, মহেশখালী, মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়া বাসীর একটি দাবি হচ্ছে দ্রুত সময়ে বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ি পূণরায় স্থাপন করা। দ্রুত সময়ে পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিস্থাপন করা না হলে আরো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলা হবে।
মানববন্ধনে বদরখালী ইউনিয়নের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
আর এইচ/
