খাগড়াছড়ি পৌরসভার শান্তিনগর এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় দুই বছরের শিশু মো. তহিদুল আলমকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে তার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রতিবেশী ও শিশুটির স্বজনদের সুত্রে জানায়, নিহত শিশুর বাবা মো. মোস্তাফিজুর রহমান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। চাকরির সুবাদে তিনি পরিবার নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শান্তিনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার চার ও দেড় বছরের বছরের দু’টি সন্তান রয়েছে। মোস্তাফিজুরের স্ত্রী সাবরিনা দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়ার পর মেন্টাল ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন। তারপর থেকে চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন স্ত্রী সাবরিনা। ঘটনার দিন রাতে শিশুটির বাবা দায়িত্বের কারনে জেলার পানছড়িতে ছিলেন। রাত তিনটার দিকে ফোনে খবর পান, তার ছোট সন্তান দেড় বছর বয়সী তহিদুল আলম আভান খুন হয়েছে। শিশুটির শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন না থাকায় বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা পরিবার ও পুলিশের।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাবিনা ইয়াসমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিশুর বাবা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “গতকাল অফিসের কাজে পানছড়িতে ছিলাম। রাতে ফিরতে পারিনি। রাত ৩টার দিকে ফোনে জানতে পারি আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা। ওসি জানান, আজ শনিবার দুপুরের নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় দায়ের করেছেন। মামলায় তার স্ত্রী সাবরিনা রানীকে আসামি করা হয়েছে। দুপুরের পর শিশুটির মাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
