চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক তরুণীকে চাকরির প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
মঙ্গলবার ( ২৬ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানাধীন ১৪নং বালুর টাল ইনকনট্রেড লিঃ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মোঃ কাশেম ( ১৯ ) বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া এলাকার নূর মোহাম্মদ এর ছেলে।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে, ৬ আগস্টে আনোয়ারায় ধর্ষণ মামলার তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী কাশেম পতেঙ্গা থানার বালুর টাল এলাকায় অবস্থান এর সংবাদে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে আনোয়ারা থানার হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, র্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত ১আসামিকে থানায় দেওয়া হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।
এই ঘটনায় রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের পুত্র রিপন প্রকাশ এনামুল হক (২৭) এবং বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের নজীর আহমেদের পুত্র মোঃ সাইফুদ্দিন (৩৪) কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য , ভুক্তভোগী তরুণী ঝালকাঠির রাজাপুর থানার পুটিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) তিনি চাকরির সন্ধানে চট্টগ্রামে মামার বাসায় আসেন। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির খোঁজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় এনামুল হক ওরফে রিপন (২৭) নামের ওই যুবকের সাথে, যিনি নিজেকে ইয়ংওয়ান গার্মেন্টসের কর্মী বলে পরিচয় দেন। গত সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে এনামুল তাকে চাকরির কথা বলে ইপিজেড এলাকায় নিয়ে ঘোরাতে থাকেন এবং সন্ধ্যা গড়ালে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। আনোয়ারা থানাধীন বোয়ালিয়া ঈদগাঁয়ের পাশে হারুনের খামারের একটি পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে গিয়ে প্রথম দফায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে এনামুল তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। তবে স্ত্রী বিষয়টি বুঝতে পেরে উত্তেজিত হলে, রাতটি কাটানোর জন্য পাশের এক প্রতিবেশীর ঘরে থাকার ব্যবস্থা করেন। পরদিন ৫ আগস্ট ভোরে এনামুল তাকে নিয়ে আবার বের হলে পথে দ্বিতীয় আসামি মো. সাইফুদ্দিন (৩৪) ও তার সঙ্গে থাকা তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আবারও সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। তরুণীর চিৎকার ও এনামুলের ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং এনামুল হককে আটক করে। তবে ঘটনার সময় বাকি আসামিরা পালিয়ে যায়।
আর এইচ/
