চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বর্ষায় নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার হালচিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বুধবার দুপুরে নগরের টাইগারপাস, বাটালি হিল, চকবাজার, বহদ্দারহাট, কাপাসগোলা ও ফরিদা পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি এসব অবকাঠামোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তিনি জলাবদ্ধতা সমস্যার মূল কারণ ও সমাধানের দিক নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে ফরিদা পাড়ার একটি ভবনের বাসিন্দা জানালা দিয়ে নালায় ময়লা ফেললে মেয়র তাৎক্ষণিকভাবে ভবন মালিককে ফোন করে সতর্ক করেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেয়র বলেন, “সরেজমিনে দেখেছি অনেক নালা অপরিকল্পিতভাবে তৈরি হওয়ায় সেগুলো দিয়ে পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন হচ্ছে না। এজন্য চলমান বর্ষা মৌসুমে নালাগুলোর সংস্কার ও পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি খালগুলোর সংস্কার কার্যক্রমও চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সব সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বসে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। সড়ক, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় তিন মাসের জন্য একটি ‘কনটিনিউয়াস মনিটরিং’ সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ওয়াসাকে বলা হয়েছে বর্ষার তিন মাস যেন তারা সড়ক কাটাকাটি না করে। একইসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সুইস গেট সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ও পাম্পিং হাউজের ব্যবস্থা করে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নগরের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলো নালায় ময়লা ফেলা ও ড্রেনেজ লাইনের প্রতিবন্ধকতা। এ বিষয়ে অভিযান ও প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।”
ডা. শাহাদাত বলেন, “ময়লা ফেলার কারণে যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং এডিস মশার লার্ভার বিস্তার ঘটছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা ছাড়া নগরী পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়।”
পরিদর্শনে মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফরহাদুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, শাফকাত আমিনসহ সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পরিদর্শনে অংশ নেন।
আর এইচ /
