চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানি-রপ্তানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক (ট্যারিফ) বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় চার দশক পর এই প্রথম ট্যারিফ বাড়ানো হলো। শুক্রবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) কনটেইনার হ্যান্ডেলিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম শাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ট্যারিফের ফলে রাজস্ব আয় বাড়বে, তবে আমদানি-রপ্তানিতে খরচও কিছুটা বাড়বে বলে জানান তিনি।
নৌ উপদেষ্টা বলেন, ‘১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম এই ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে হলে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ অপরিহার্য। তবে এ নিয়ে অহেতুক প্রোপাগান্ডা না চালানোর আহ্বান জানান তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশিদের হাতে বন্দরের অপারেশনাল দায়িত্ব দিলেও সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে। সম্প্রতি সাইপ পাওয়ার টেকের পরিবর্তে ৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।’
পরিদর্শনকালে নৌবাহিনী চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী জানান, নতুন অপারেটরের অধীনে ৭ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে দৈনিক গড় হ্যান্ডেলিং হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ টিইইউএস, যা আগের মাসের তুলনায় ১২ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৩০টি জাহাজের কনটেইনার লোড-আনলোডিং সম্পন্ন হয়েছে এবং ১০ ঘণ্টা জাহাজের সময় সাশ্রয় হয়েছে।
বর্তমানে এনসিটির ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর জেটিতে একযোগে চারটি জাহাজে কনটেইনার ওঠানামার কার্যক্রম চলছে। বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের মতে, চট্টগ্রাম ড্রাই ডকের এই কার্যকর ভূমিকা দেশের আমদানি-রপ্তানি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
আর এইচ/
