রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার নবম দিনের আলোচনায় বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। আলোচনায় কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
আজকের আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে পূর্ববর্তী আলোচনায় অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনার প্রধান তিনটি এজেন্ডা ছিল—বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের এখতিয়ার এবং জরুরি অবস্থা জারির বিধান।
আলোচনার শুরুতে সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন“আমরা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে, কী পরিমাণ আত্মত্যাগের ভেতর দিয়ে আজকের এ পর্যায়ে পৌঁছেছি, সেটা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ যেন হয় আমাদের দিক নির্দেশক।”
তিনি আরও বলেন,“৫৩ বছরে রাষ্ট্র গঠনের এমন সুযোগ আর আসেনি। অনেক অন্যায়, নিপীড়ন আর দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ এসেছে, তা হেলায় হারানো যাবে না।”
এর আগে গতকাল অনুষ্ঠিত অষ্টম বৈঠকে অধ্যাপক রীয়াজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জুলাই মাসের মাঝামাঝি কিংবা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখা প্রণয়ন, যা সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা ও কাঠামোর রূপরেখা নির্ধারণ করবে।
