সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে অপরাধবোধে ভুগবেন উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তারা বর্তমানে একপ্রকার যুদ্ধের মত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
রবিবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য তুলে ধরেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে বসে সাহস পেয়েছি। আমরা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে না পারি—তবে আমিও অপরাধবোধ করব।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, প্রধান উপদেষ্টা তাদের বলেছেন, ভারতের আধিপত্য ও হস্তক্ষেপের কারণে দেশ এক গভীর সংকটে রয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বাস করেন, এই সংকট মোকাবেলায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
প্রেস সচিব আরও জানান, অধ্যাপক ইউনূস রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন, তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু ঘটতে দেবেন না।
রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিভাজন দূর করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা পুনরায় উল্লেখ করেছেন, আগামী বছরের ৩০ জুনের পর তিনি পদে থাকবেন না। তিনি কথা রাখার মানুষ।”
এদিন এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রথম পর্যায়ের বৈঠকের পর দ্বিতীয় দফায় দেখা করেন মাওলানা সাদিকুর রহমান, রেজাউল করিম, মামুনুল হক, আহমেদ আব্দুল কাদের, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, নুরুল হক নূরসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতা ও সংগঠকরা।
এর আগে, শনিবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা পৃথকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
শনিবারের বৈঠক শেষে প্রেস সচিব জানান, অধ্যাপক ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি তার প্রতিশ্রুতির বাইরে যাবেন না।
প্রেস সচিব বলেন, “৩০ জুন একটি নির্ধারিত সময়সীমা, এর বাইরে প্রধান উপদেষ্টা যাবেন না।” তিনটি বৈঠকই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতারা প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আর এইচ/
