মিরসরাইয়ে কমতে শুরু করেছে বানের পানি। এতে বন্যাকবলিত সবগুলো এলাকার সড়ক এতদিন পানির নিচে থাকলেও গতকাল সোমবার (২৬ আগস্ট) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। এতে বর্নাদুর্গত এলাকার সঙ্গে সহায়তাকারীদের যোগাযোগ কিছুটা বেড়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে থাকা বানভাসি মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, গত বুধবার (২১ আগস্ট) থেকে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় দুই লাখ লোক কার্যত পানিবন্দি হয়ে পড়ে। গত রবিবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত থেকে এখানকার করেরহাট, হিঙ্গুলী, ধুম, ওচমানপুর ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। এতে এসব এলাকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল করতে পারছে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া বানভাসি মানুষ এসব এলাকায় বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে তবে কাঁচা ও মাটির ঘরের বাসিন্দারা এখনো বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি তথ্য জানিয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রশাসক মাহফুজা জেরিন সোমবার সন্ধ্যার পর জানান, ফেনী নদীর পানির উচ্চ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসায় উপজেলার বন্যাকবলিত কয়েকটি ইউনিয়নে পানি কমতে শুরু করেছে। এখানকার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সড়ক থেকেও পানি নেমে গেছে। গত রবিবার উপজেলার ৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২০ হাজারেরও বেমি বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিলেও সোমবার বিকাল পর্যন্ত এটি দাঁড়িয়েছে ১০ হাজারে। কারণ পানি কমে যাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের স্বন্দ্বীপ চ্যানেলের মিরসরাই অংশে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মো. জাকির হোসেন (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের ১৬ নম্বও গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা তাকে সাগরের কিনার থেকে উদ্ধার করে মিরসরাই সদও এলাকার মাতৃকা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার গোলাম মোর্শেদ অভি জাকির হোসেনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মিরসরাইয়ে বর্না দুর্গত এলাকার মানুষকে চিকি’সা সেবা দিতে মিরসরাইতে দুই দুইটি অস্থায়ী হাসপাতাল খোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সোমবার সন্ধ্যার পর মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রশাসক মাহফুজা জেরিন জানান, বানভাসি মানুষকে চিকি’সা সেবা দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উপজেলার সোনাপাহাড় এবং বারইয়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইটি অস্থায়ী হাসপাতাল খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এখানে প্রতিদিন ১০জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বানভাসি মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিবেন।
