ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধান বিচারপতির পদ ছাড়লেন ওবায়দুল হাসান। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শত শত আন্দোলনকারী গতকাল শনিবার সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট আঙিনার ভেতর অবস্থান নিলে দুপুরে তিনি পদত্যাগ করেন। এর পরপরই আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারকও পদত্যাগ করেন। তাঁরা সংবিধানের ৯৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে পদত্যাগ করেন বলে গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দুপুর আড়াইটার দিকে ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আপনাদের জন্য একটি বিশেষ সংবাদ তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার করার তাগিদ অনুভব করছি। আমাদের প্রধান বিচারপতি কিছুক্ষণ আগে পদত্যাগ করেছেন। উনার পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছেছে।
এটা উপযুক্ত প্রসেসিংয়ের (প্রক্রিয়ার) জন্য আমরা কালবিলম্ব না করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেব এবং আশা করব যে খুব দ্রুত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’ তখন পর্যন্ত তিনি ওবায়দুল হাসানের পদত্যাগপত্র পেয়েছেন জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহবান জানান।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম গত ৭ আগস্ট স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। যথারীতি ৮ আগস্ট বিচারকাজে বসেননি সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় উভয় বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে ফুলকোর্ট সভা করার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। এদিকে ফুলকোর্ট সভা স্থগিতের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে আসার আগেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শত শত কর্মী সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ঢুকে বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেন। দুপুর ১টার মধ্যে পদত্যাগ করতে বলা হয়।
প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের পর গতকাল বিকেলে আপিল বিভাগের আরো পাঁচ বিচারপতির পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। পদত্যাগ করা বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। পদত্যাগ করা আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্যে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর পদত্যাগপত্রে বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে পদত্যাগ করার কথা উল্লেখ করেছেন।
তবে আপিল বিভাগের আরেক বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের পদত্যাগের খবর জানাতে পারেনি এসব সূত্র। গুঞ্জন শোনা যায়, তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এমন গুঞ্জনের মধ্যে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে বক্তব্য দেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি ঘোষণার দাবি জানান। পরে তাঁকে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
