রোববার (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কেন্দ্রে কেন্দ্রে সকালে পৌঁছে যাবে ব্যালট বাক্স। প্রিজাইডিং অফিসারদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এখন কেবল ভোটের জন্য অপেক্ষা।
আজ শনিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মালামাল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বুঝে নিয়ে নিজ নিজ কেন্দ্রে অবস্থান করবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।
তবে আজ বিকেলে দুর্গম ও উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় ব্যালট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। বাকি ব্যালট ভোটের দিন সকালে যাবে।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এ প্রসঙ্গে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করাই নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য।
এজন্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, তার সবই নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ব্যালট পেপারও পাঠানো হয়েছে। শেষ সময়ের প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে- যাতে কোনো ধরনের দুর্বলতা বা ত্রুটি না থাকে।
এদিকে নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ দৃশ্যমান করা এবং ফল প্রকাশ পর্যন্ত পরিবেশ শান্ত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে ইসি। ভোটাররা যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যান, সেটাও ইসির অন্যতম লক্ষ্য।
এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলোর সম্ভাব্য কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজখবর রাখতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যক্রমও দৃশ্যমান রাখতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার এক দিনেই ৪০টির বেশি মামলার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এ নির্বাচনে এটাই প্রথম একসঙ্গে এতসংখ্যক মামলার সিদ্ধান্ত হলো।
এছাড়া শুক্রবার সারা দেশে ৬৫৩ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নেমেছেন। যেকোনো অপরাধ দেখলেই তাদের তাৎক্ষণিক বিচারের মাধ্যমে (সামারি ট্রায়াল) দোষীকে সাজা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে যাতে প্রশ্ন না ওঠে এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে দুর্গম ও চরাঞ্চল এলাকার ৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে আজ ব্যালট পাঠানো হবে। বাকি ৩৯ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার যাবে।
সরকারবিরোধী জোটের ভোট বর্জনের মধ্যে এবার কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতিকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সবাই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নেওয়া হয়েছে নানা কৌশল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ভোটার উপস্থিতির ওপর জোর দিচ্ছেন ইসি কর্তারা।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ ৭টি বাহিনীর সাড়ে ৭ লাখ সদস্য ভোটকেন্দ্র পাহারায় ও ভোটারের নিরাপত্তায় মাঠে কাজ করছে।
এসব বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে র্যাবের ৫ হাজার ৫৬০, বিজিবির ৪৪ হাজার ৯১২, পুলিশের ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৭, আনসারের ৫ লাখ ১৪ হাজার ২৮৮, সেনাবাহিনীর ৩৮ হাজার ১৫৪, কোস্টগার্ডের ২ হাজার ৩৫৫ এবং নৌবাহিনীর ২ হাজার ৮২৭ জন। এর বাইরে বিচারিক ও নির্বাহী বিচারক রয়েছে প্রায় ৩ হাজার।
এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিসাইডিং অফিসার প্রতি কেন্দ্রের জন্য, প্রতিটি ভোটকক্ষে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও কক্ষে দুজন পোলিং অফিসার) দায়িত্ব পালন করছেন ৮ লাখ।
এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪৮ হাজার ১৪৮, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ এবং পোলিং অফিসার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১২৮ জন। এর বাইরে ৬৬ রিটানিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯২ জন।
দেশি সাংবাদিক ১০ হাজার, বিদেশি সাংবাদিক ৯২ জন। বিদেশি পর্যবেক্ষক ২০০-এর ওপরে। এছাড়া দেশীয় ৮৪ পর্যবেক্ষক সংস্থার ২০ হাজার ৭৭৩ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে গত বুধবার নির্বাচনী মাঠের নিরাপত্তায় মাঠে নেমেছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। এর আগে ২৯ ডিসেম্বর মাঠে নামেন পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা।
তারা নির্বাচনী মাঠে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্যরা গতকাল মাঠে নেমেছেন। এর আগে ভোটের মাঠের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে ইসি।
বৈঠকে বাহিনীগুলোর প্রধানরা মাঠের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পুরোটাই ইসিকে অবহিত করেছেন। ইসির পক্ষ থেকেও তাদের সর্বশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থী ১৯৭০ : আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ২৮টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজর ৯৭০। এর মধ্যে দলভিত্তিক ১ হাজার ৫৩৪ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৩৬ জন।
দল মনোনীত সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি, দলটির ২৬৫ (তবে চূড়ান্ত প্রার্থী হয়ে পরাজিত হওয়ার শঙ্কায় এরই মধ্যে ৮০ জন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
কিন্তু ব্যালটে তাদের নাম থাকবে), দ্বিতীয় অবস্থানে আওয়ামী লীগ; দলটির প্রার্থী সংখ্যা ২৬৩, তৃণমূল বিএনপির ১৩৩, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১২২, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৫, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ৭৯, জাতীয় সমাজতন্ত্র দল-জাসদের ৬৪, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ৬৩ এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ৫৪ জন। বাকি ১৯ দলের ৩০০ আসনের বিপরীতে প্রার্থী সংখ্যা ৫০-এর নিচে।
