দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কর্ণফুলী নদীর নিচে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধনের প্রথম সপ্তাহের ছুটির দিনে গাড়ির চাপ বাড়ায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) দুপুর থেকে টানেলের উভয় প্রান্তে এ যানজট তৈরি হয়। সকাল থেকে আনোয়ারা প্রান্ত ও পতেঙ্গা প্রান্তে হাজার হাজার দর্শনার্থী টানেল দেখতে ভিড় জমান।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, টোল প্লাজায় টোল নিতে সময় লাগায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাড়ে তিন মিনিটের টানেল পাড় হতে সময় লাগছে আধা ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট। শুধু টানেলের বাইরে উভয় প্রান্তে প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে এ যানজট ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা বাজে আনোয়ারা প্রান্তে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দোলন কান্তি দাশ নামের এক সরকারী কর্মকর্তা বলেন, আমরা সরকারি চাকরি তাই স্বপ্নের টানেল দিয়ে পার হওয়ার সুযোগ হয়নি। আজ বন্ধের দিন ছিলো তাই আজ টানেল পার হতে চেয়েছিলাম। এসে অনেক যানজটে পড়েছি। প্রায় আধঘণ্টা ধরে জ্যামে বসে আছি।
জুনায়েদ নামে এক চাকরিজীবী জানান, সপ্তাহ জুড়ে চাকরি চাপ তাই ছুটির দিনে বাড়ি পাশে টানেলে ঘুরতে বেরিয়েছি । কিন্তু আধঘন্টার বেশি সময় ধরে যানজটে আটকা পড়ে আছি ।

এদিকে টানেল দিয়ে পিকআপ করে প্রথম বারের মত গবাদিপশু পার হওয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার সবচেয়ে বড় গবাদিপশুর বাজার তৈলারদ্বীপ সরকার হাট। আজ সন্ধ্যা নাগাদ সরকার হাট থেকে গরু কিনা টানেল দিয়ে এই গাড়ি পতেঙ্গা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, গবাদিপশু বহনকারী পিক-আপের দুইটি গরু রয়েছে। এছাড়াও ওই গাড়ীতে বেশ কিছু মানুষও রয়েছে।
একাধিক ফেসবুক ভিডিওতে দেখা যাই টানেল এর টোল বক্স থেকে অর্ধ কিলোমিটার এর বেশি এলাকা জুড়ে শত শত কার, মাইক্রো, বাস, ট্রাক জ্যামে আটকে আছে। আর যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে সেলফিতে মেতেছে।
টানেলের টোল ম্যানেজার বেলায়েত হোসেন বলেন, ছুটির দিনে সবাই টানেল ও তার আশেপাশের এলাকা ঘুরতে এসেছেন। এতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যান চলাচল বেড়ে গেছে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করেন। এর পরের দিন থেকে শুরু হয় যান চলাচল।
