মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

অক্টোবরে ফয়সালার নামে বিএনপি কী করতে চায়?

বিশেষ প্রতিবেদক

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে, আর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলবে এমন গুজব ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব ছিল দলটি। সাধারণ মানুষের মনেও অজানা আতঙ্ক বিরাজ করেছিল- কী যেন হয় ১০ ডিসেম্বর। আবারও সেই পথে হাঁটছে সেনা ছাউনি থেকে থেকে জন্ম নেওয়া দলটি। এবার তারা এমাসেই অর্থাৎ অক্টোবরেই বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে বলে দেশবাসীকে বিশ্বাস করাতে চাইছে।

নভেম্বরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগেই চূড়ান্ত আন্দোলনে দফারফায় পৌঁছাতে চায় বিএনপি। এজন্য অক্টোবরে রাজপথেই ফয়সালা করতে চায় বিএনপি, এবং সেটা রাজপথেই। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে, ফয়সালা বলতে আদতে কি চায় বিএনপি?

কয়েক সপ্তাহ ধরে বর্তমান সরকার পতনের একদফা দাবিতে সরব হয় বিএনপি। কিন্তু এর মাঝে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করছে। দাবি ও দফার ক্ষেত্রে বিএনপ স্পষ্ট করতে পারেনি যে তাদের দফা আসলে কয়টি। কখনও ৩১ দফা, কখনও ১০ দফা, এরপর এখন একদফার আন্দোলনেও একই অবস্থা। সর্বশেষ দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্রে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল গত ২৪ সেপ্টেম্বর। ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও বিএনপি কিছুই করতে পারেনি। আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর দলের মহাসচিব আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন বলেছিলেন। অর্থাৎ, আল্টিমেটামের মধ্যে কাজ না হলে কি করা হবে সেই সিদ্ধান্তই তাদের ছিলনা। ফলে কোনো আন্দোলনেই জনসম্পৃক্ততা পায়নি দলটি। সিদ্ধান্তহীনতা, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের অভাব, সমন্বয়হীনতার কারণে কোনো আন্দোলনেই যেমন দৃশ্যমান সফলতা আসেনি। তেমনি বারবার দলের নেতাকর্মীদেরকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।

২০১১ সালে খালেদা জিয়া ঘোষণা করেছিলেন সরকারের বিরুদ্ধে ঈদের পরে তীব্র আন্দোলন হবে, সে বছর ঈদ এসেছিল ঠিকই কিন্তু জনসমর্থন না পেয়ে আন্দোলন করতে পারেনি বিএনপি। একইভাবে ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ সালেও ঈদের পরে তীব্র আন্দোলন ঘোষণা করেছিলেন খালেদা জিয়া। প্রতিবছর ঈদ এলেও খালেদা জিয়ার সেই আন্দোলন আর আসেনি। বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান ২০২২ সালে ঘোষণা করেছিলেন ১০ ডিসেম্বরের পর খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলবে। গেল ১০ ডিসেম্বর, কিন্তু ঈদের পর আন্দোলনের মতোই আবারও শুভংকরের ফাঁকি দিলো বিএনপির আন্দোলন।

বিএনপির চলমান কর্মসূচি শেষ হবে ৫ অক্টোবর। এরপর পরবর্তী ধাপের আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে। তাদের পরিকল্পনা সেই আন্দোলন ২০ তারিখ পর্যন্ত চালানোর পর ২৪ তারিখের থেকে চূড়ান্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে। দলটির এমন বিশ্রাম-বিরতি দিয়ে আন্দোলন করার প্রবণতায় বেজায় নাখোজ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
এজন্য দলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নেতা আন্দোলনে নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছেন, যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন তাদের মাঝেও উৎসাহের অভাব দেখা যাচ্ছে। অনেককেই তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিতেও দেখা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, দলটির নেতা কে? প্রতি মুহূর্তে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে। চেয়ারপারসেন খালেদা জিয়া বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং শারীরিকভাবে রাজনীতি করতে অক্ষম। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ফেরারি আসামি হয়ে দেশের বাইরে। মহাসচিবসহ অন্য নেতারাও ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। একারণে আন্দোলন কর্মসূচিতে ঠিকমতো সমন্বয় হচ্ছে না। এই সুযোগটি নিচ্ছে সরকারি দল।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পতনের আন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই লড়াইয়ে সবাইকে থাকতে হবে এবং এই সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যাবের ওপর স্যাংশন এবং ভিসানীতির কারণে সরকার কিছুটা চাপে আছে বলে মনে করে বিএনপি। এজন্য মাঠের আন্দোলনের চেয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপে দিকে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা অপেক্ষায় আছে বিএনপি নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার মনে করেন, বিএনপি বিগত এক বছর ধরে যে আন্দোলন চালিয়ে আসছে তাতে তাদের দাবি আদায় বা লক্ষ্য পূরণ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, ‘বিএনপি বিদেশি চাপের কথা বলে ও ষড়যন্ত্র করে যে চাপ দিতে চাইছে তাতে আওয়ামী লীগ বিচলিত নয়। এ অবস্থায় যদি সমঝোতার কথা সামনে আসে, তাহলে প্রশ্ন হলো, সমঝোতা হবে কোন বিষয়ে?, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি উচ্চ আদালতের আদেশে বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ, ২০১৮ সালের মতো বিদ্যমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ছাড়া কোনো সমঝোতার পথ বিএনপির সামনে খোলা নেই।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায় বলেন, ‘সব বিষয়ে জনসমর্থন হারিয়ে দিশেহারা বিএনপি আন্দোলনের নামে খালি কলশি বাজিয়ে যাচ্ছে। নিজের ঘর গুছিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার মতো প্রস্তুতি দলটির নেই। প্রধান বিরোধীদল হিসেবে দাবি করলেও এখন দলটির অবস্থান অত্যন্ত নড়বরে। অক্টোবরেই ফয়সালা করার মতো সক্ষমতা দলটির নেই। যেকোনো উপায়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে দলটি।’

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রামনিউজ.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, মতামত, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি । আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@chattogramnews.com ঠিকানায়।

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অর্ধ কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট-আইফোন উদ্ধার

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫১ লাখ ৪ হাজার...

লোহাগাড়ায় ডাকাতি ‌‌দলের স্বর্ণালঙ্কারসহ ১৮ লাখ টাকার মালামাল লুট

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভোররাতে এক বসতঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত...

চট্টগ্রামে পুলিশ দেখে গাড়ি রেখে পালাল মাদক কারবারি, ভিতরে মিলল গাঁজা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেটকারসহ ৫০ কেজি গাঁজা...

বাদুরতলায় “হাতিল ফার্নিচার” নতুন শো রুম শুভ উদ্বোধন

নগরীর বাদুর তলায় হাতিল ফার্নিচার এর নতুন শো রুমের...

মহানগর ওলামা দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে...

লামায় ১৫৪ মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য নেই ধর্মীয় শিক্ষক, ১৮ বছরেও হয়নি সমাধান

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক...

আরও পড়ুন

শিক্ষকদের অবসর সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষকরা সমাজের ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে অভিহিত করে অবসরকালীন সুবিধার অর্থের জন্য তাদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (১৫...

সংসদে ১০ বছরের জ্বালানি সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরবো: প্রধানমন্ত্রী

দেশের জ্বালানি সমস্যা আগামী ১০ বছরে কীভাবে সমাধান করা হবে, সেই পরিকল্পনা আগামী ২৭ আগস্ট সংসদ অধিবেশনে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন...

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার...

মন্ত্রিত্ব ও বিএনপির মহাসচিব পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল

দেশে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন পাওয়ার পর মন্ত্রিসভা এবং দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার (১৩...