করপোরেট কোম্পানি বা বড় ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার যে অভিযোগ ক্রেতারা করে থাকেন, সেটির সত্যতা ফুটে উঠল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের বক্তব্যে।
তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, টাকার অবমূল্যায়ন, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়লেও দেশে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে অধিদপ্তর কার্যালয়ে ভোক্তা অধিকার সচেতনতা বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনালকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
‘করপোরেট কোম্পানি বা বড় বড় ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থিতিশীল করে, তা গ্রহণযোগ্য নয়’ মন্তব্য করে মহাপরিচালক বলেন, “আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তর সব সময় অভিযান পরিচালনা করছে। তবে শুধু দাম কমালেই হবে না, কৃষকদের উৎপাদন খরচও বিবেচনা করতে হবে।
ডিমের দাম নিয়েও কারসাজির কথা উঠে আসে সফিকুজ্জামানের বক্তব্যে। সরকার বাধ্য হয়ে ডিম আমদানি করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা ডিমের দাম নিয়ে কারসাজি করছে তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্যই ডিম আমদানি করা হচ্ছে।’
কারসাজি বুঝতে পারলেও কেন অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিতে পারছে না, তা নিয়েও কথা বলেন তিনি। আইনের কিছুটা দুর্বলতার পাশাপাশি উল্লেখ করে জনবল সংকটের কথা। বলেন, ১৭টি জেলায় অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা নেই। তারপরও সারাদেশে প্রতিদিন অধিদপ্তরের ৪০-৫০টি টিম দাম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সাধারণ জনগণকেও সোচ্চার ও সচেতন হওয়ার তাগিদও দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
এই বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি যৌথভাবে আয়োজন করছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
সংস্থাটির চেয়াম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া সুলতানাও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিকরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আমাগী সপ্তাহে প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল এবং পরে গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।
এবার চ্যাম্পিয়ন দল পাবে নগদ ২ লাখ টাকা, রানারআপ দলের জন্য বরাদ্দ এক লাখ টাকা। গত ১১ অগাস্ট প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
